Logo
আজঃ বুধবার ১৯ জুন ২০২৪
শিরোনাম

বিএনপিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে নামানো অসম্ভব

প্রকাশিত:রবিবার ০৫ মার্চ ২০২৩ | হালনাগাদ:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | ২৪৫জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক: এবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিএনপিকে নির্বাচনে নামানো অসম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আজ রোববার এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১-এর উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও জ্যেষ্ঠ ‍যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সুপসহ কারাবন্দী নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে এ মানববন্ধন হয়।

সরকারের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ‘দুর্ভিক্ষ, দুঃশাসন আর ভোটচুরি, জনগণের অর্থ লুটপাটের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় থাকার বাসনা পরিত্যাগ করুন। উন্নয়ন করেছেন আস্থা নিয়ে জনগণের কাছে ‍যান। জনগণ যদি আবার আপনাকে লুটপাট করার জন্য নির্বাচিত করে আমরা বাধা দেবো না।

গয়েশ্বর বলেন, ‘নির্বাচন করার সামর্থ্য আপনার নাই-এটা পরিস্কার। বিএনপিকে ২০১৮ সালে নির্বাচনে নেওয়া যত সহজ হয়েছিল, এবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিএনপিকে নির্বাচনে নামানো অসম্ভব। এই অসম্ভব কাজটা আপনি সম্ভব করতে যাইয়েন না তাতে জটিলতা বাড়বে। আর বিএনপি থেকে কাউকে ভাগাইয়া নেবেন ওটাই বোধহয় সম্ভব না। কারণ যে নৌকার তলা ফাটা আছে সেই নৌকার তলায় কেউ উঠবে না ডুবে মরার জন্য। আর যে নদীতে পানি নাই সেই নদীতে মানুষ কিন্তু ঝাঁপ দেয় না।’

২০১৮ সালের নির্বানের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আসলে তো মানুষ নৌকায় চড়ে নাই। ওই পুলিশকে দিয়া কয়টা ভোট জোগাড় করছেন। এবার সেই পুলিশ আপনার জন্য সেই ভোট জোগাড় করবে কিনা সেটাও মতিস্কে রাখেন। আবার বলছি, বাংলাদেশে সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের দাবিতে শেখ হাসিনাকে রেখে বাংলাদেশের জনগণ ভোট কেন্দ্রে যাবে না, কোনো রাজনৈতিক দলগুলো অংশ গ্রহণ করবে না এবং সেই ভোট হতে পারবে না। আর যদি প্রচুর দালাল-টালাল জোগাড় করে থাকেন সেই দালালদের পাহারা দিয়ে রাখতে পারবে কী না জনগণের রোষানলের হাত থেকে সেই ব্যাপারে কিন্তু শতভাগ সন্দেহ আছে। তাই বলব, সময়মত পদত্যাগ করুন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও ব‌লে‌ন, ‘মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, মানুষ বাঁচতে চায়। আর এ কার‌ণে অ‌চি‌রেই আপনাকে ক্ষমতা থেকে নামাতে হবে, আপনার পতন নিক‌টে, আপ‌নি কোথায় যাবেন সেটা খুঁজুন।

গয়েশ্বর বলেন, ‘আমাদের নেতা রিজভী, সরাফত আলী সপুসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তি চাই। আমাদের দাবি একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। ৯৬ সালে জামায়াতের সঙ্গে সেদিন তত্ত্বাবধায় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করেছে আওয়ামী লীগ।

প্রধানমন্ত্রীর উ‌দ্দেশে তি‌নি আরও ব‌লেন, ‘আপনি গণভবনের বসে আসন ভাগাভাগি করবেন, তা হতে পারে না। ৯১ সালে আপনি গোপালগঞ্জ ছাড়া বাকি আসনে পরাজিত হয়েছিলেন, আর খালেদা জিয়া পাঁচটি আসনে প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। রাজত্ব যার নেশা তার জন্য গণতন্ত্র নয়।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ঢালী আসাদুজ্জামান রিপনের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আহমেদ শাহিনের পরিচালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, রফিক শিকদার, তাঁতী দলের কাজী মুনিরুজ্জামান মুনির, মৎসজীবী দলের আবদুর রহিম, কৃষক দলের ভিপি ইব্রাহিম, জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।


আরও খবর



ভোলার দৌলতখানে বরফ কলের গ্যাসের রিসিভার বিস্ফোরণ, নিহত-১, নারি-শিশুসহ আহত-৮

প্রকাশিত:রবিবার ০৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৭ জুন ২০২৪ | ৭৫জন দেখেছেন

Image

শরীফ হোসাইন, ভোলা বিশেষ প্রতিনিধি:ভোলার দৌলতখানে খোরশেদ আলম আইচ ফ্যাক্টরি (বরফ কল) গ্যাসের রিসিভার বিস্ফোরণ হয়ে ছিদ্দিকা খাতুন নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছে। এতে নারী-শিশুসহ আহত হয়েছে আরো ৮জন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গ্যাস নিয়ন্ত্রণ আনেন। শনিবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় দৌলতখান পৌরসভা ৩নং ওয়ার্ডের আইচ ফ্যাক্টরিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে আহতরা বরিশাল,  ভোলা, দৌলতখান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। 

আহতরা জানান, সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করে খোরশেদ আলম আইচ ফ্যাক্টরিতে গ্যাসের রিসিভার বিস্ফোরণ হয়। এ সময় বিকট শব্দে গ্যাস এলাকায় ছড়িয়ে পরে ফ্যাক্টরির পাশে থাকা বসত ঘরের ছিদ্দিকা খাতুন নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়। এ ঘটনায় অন্তত আরো ৮ জন আহত হয়য়। আহতদের উদ্ধার করে বরিশাল, ভোলা, দৌলতখান হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। 

ভোলা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারি পরিচালক লিটন উদ্দিন জানান, গ্যাস বিষ্ফোরণের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দীর্ঘ ক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে গ্যাস নিয়ন্ত্রণ করেছে। এ ঘটনায় এক বৃদ্ধা মারা গেছে। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।


আরও খবর

ভোলায় "রাসেল ভাইপার" আতঙ্ক

বুধবার ১৯ জুন ২০২৪




নরেন্দ্র মোদি তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ সন্ধ্যায়

প্রকাশিত:রবিবার ০৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | ৮৬জন দেখেছেন

Image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:টানা তৃতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সন্ধ্যায় শপথ নিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা।

রোববার (৯ জুন) সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি শপথ নেবেন।

এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কার্যত সাজ সাজ রব দিল্লিজুড়ে। রাজধানীতে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। থাকছে তিন স্তরের নিরাপত্তা। নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাত দেশের রাষ্ট্র নেতারা।

অন্যরা হলেন- শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংঘে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, সিসিলিসের ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ আফিফ, মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী প্রবীন্দ কুমার জুগনাথ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল প্রচন্ড এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সেরিং তোবগে। এ ছাড়াও এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ৮ হাজারের বেশি বিশিষ্টজনকে।

দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে সাত দফায় ভোটগ্রহণের পর লোকসভা নির্বাচনে ফের জয়ী হয় বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। তাই তারাই ফের গড়ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী পদে নরেন্দ্র মোদি রোববার শপথ নিলেও, পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার শপথ কয়েক দিন পর হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রী পদে আজই শপথ গ্রহণ হবে। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি আজ ৩০ জন মন্ত্রী শপথ নিতে পারেন। এর মধ্যে বিজেপির মন্ত্রীদের সংখ্যাই বেশি হবে। জোটের অন্য দলগুলোর কয়েকজন সংসদ সদস্যও শপথ নিতে পারেন।

নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। যে মন্ত্রীরা আজ শপথ নেবেন, তাদের আজ সকালেই ফোন করে জানিয়ে দেওয়া হবে।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান চলার সময় যেকোনো অপরধমূলক বা সন্ত্রাসী হুমকি রোধ করতে দিল্লিতে নো-ফ্লাই জোন ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিধিনিষেধ সোমবার পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।


আরও খবর



বাজারে আসা শুরু করলো নওগাঁর সুমিষ্ট-সুস্বাদু আম

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | ১৪০জন দেখেছেন

Image

এম এম হারুন আল রশীদ হীরা; নওগাঁ প্রতিনিধি:অবশেষে নওগাঁসহ দেশের বাজারে আসা শুরু করলো নওগাঁর সুমিষ্ট ও সুস্বাদু আম। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়সূচী অনুযায়ী নওগাঁর বাগান থেকে বুধবার (২২মে) স্থানীয় জাতের/গুটি আম নামানোর মধ্যে দিয়ে এই আম পাড়া শুরু হলো। তবে নওগাঁর ঐতিহ্য আম্রপালি অন্যান্য জাতের সুস্বাদু ও সুমিষ্ট আম পেতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে ভোক্তাদের।

চলতি বছর জেলা থেকে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার আম বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়। এছাড়াও এবছর নওগাঁ থেকে ১হাজার মেট্টিক টন আম বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী ২৮মে থেকে গোপালভোগ, ২জুন ক্ষীরসাপাত/হিমসাগর, ৭ জুন নাক ফজলি, ১০জুন ল্যাংড়া ও হাঁড়িভাঙা, ২০ জুন ফজলি, ২২জুন আম্রপালি এবং ১০জুলাই থেকে আশ্বিনা, বারি আম-৪, গৌড়মতি ও কাটিমন আম সংগ্রহ করা যাবে। জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে চলতি বছর জেলার ৩৩হাজার ৩০০হেক্টর জমির বাগানে আম চাষ হয়েছে। এসব বাগানে ব্যানানা ম্যাংগো, মিয়াজাকি, কাটিমন, গৌড়মতি, বারি আমসহ দেশি-বিদেশি প্রায় ১৬ জাতের আম চাষ করেছেন চাষিরা। নওগাঁ থেকে এ বছর অন্তত ৪লাখ ৩১হাজার ৫০০টন আম উৎপাদনের আশা করছে নওগাঁর কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি সসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, আজ থেকে স্থানীয় জাতের/গুটি আম পাড়া তারিখ নির্ধারণ নির্ধারণ করে দেওয়া ছিলো। সেই সময় অনুযায়ী চাষিরা গুটি আম নামাবেন। এছাড়াও উন্নত জাতের যেসব আম আছে সেগুলো বাজারে আসতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। পরিপক্ব ও ক্ষতিকারক কেমিক্যাল উপাদানমুক্ত আম নিশ্চিত করতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে যদি কোনো বাগানে আম পেকে যায় চাষীরা উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে সেগুলো নামাতে পারবেন। ভোক্তাদের কাছে নওগাঁর পরিপক্ক ও বিষমুক্ত আম পৌছে দিতে জেলা কৃষি বিভাগ বদ্ধ পরিকর।

আরও খবর

ভোলায় "রাসেল ভাইপার" আতঙ্ক

বুধবার ১৯ জুন ২০২৪




কুড়িগ্রামে পাঁচপীর ডিগ্রী কলেজে এসএসসি জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের সম্বর্ধনা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | ১৪২জন দেখেছেন

Image

সহিদুল আলম বাবুল, কুড়িগ্রাম ব্যুরো:কুড়িগ্রামের উলিপুরে পাঁচপীর ডিগ্রী কলেজের হলরুমে এসএসসি ২০২৪ এর উলিপুর উপজেলার জিপিএ ৫ প্রাপ্ত প্রায় দেড়শত শিক্ষার্থীদের সম্বর্ধনা প্রদান করা হয়েছে l পাঁচপীর ডিগ্রী কলেজ কর্তৃপক্ষের আয়োজনে সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ওই কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ডা۔ জাহেদুল  ইসলাম l ২২ মে বুধবার সকাল ১০ টায় উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা তাদের অভিভাবকদের সাথে নিয়ে কলেজ চত্বরে এসে হাজির হয় l এরপর কলেজের একাডেমিক ভবনের চতুর্থ তলার হলরুমে শুরু হয় সংবর্ধনার আয়োজন l হল রুমটি জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে কানায় কানায় ভরে ওঠে l জায়গার সংকুলান না হওয়ায় অভিভাবকরা অনেকেই পাশের রুমে এবং বারান্দার আসনে বসে পড়েন l

সংশ্লিষ্ট কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক এরশাদুন নবী চৌধুরীর সঞ্চালনায় শুরু হয় আনুষ্ঠানিক আলোচনা পর্ব l শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, ওই কলেজেরই কেমিস্ট্রির সহযোগী অধ্যাপক ও উলিপুরের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান এন এস আমিন রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শামীম আখতার আমিন l এরপর বক্তব্য রাখেন, মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, উৎপল কুমার সরকার, মোঃ আব্দুল কাইয়ুম l

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী বর্ষাসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা l এ সময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান গণও শিক্ষার্থীদের অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য স্পৃহা মূলক বক্তব্য রাখেন l অনুষ্ঠানের মাঝে জিপিএ -৫ প্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের হাতে একটি করে রজনীগন্ধার স্টিকসহ ক্রেস্ট তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ডা۔ জাহেদুল হক l

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল মনজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান l


আরও খবর



আমতলীতে রিমালের পানিতে সাড়ে ৩শ’ হেক্টর জমির আউশের বীজতলার সর্বনাস

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | ১১০জন দেখেছেন

Image

আব্দুল্লাহ আল নোমান,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:আমতলীতে রিমালের পানিতে দেড় সপ্তাহ ধরে আউশের বীজতলা তলিয়ে থাকায় তা পচে নষ্ট হওয়ায় কৃষকের  সর্বনাস হয়েছে। উপজেলার শত শত কৃষকের ঘামে শ্রমে তৈরী করা নীচু জমির সাড়ে ৩শ’ হেক্টর বীজতলা পচে নষ্ট হওয়ায় চলতি মৌসুমের  আউশ আবাদ নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন কৃষকরা। 

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,  উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভায় এবছর ৭৫৫ হেক্টর জমিতে আউশের বীজতলা করা হয়েছে। আবাদের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৩শ’ ২৫ হেক্টর জমি। ফসলের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৯শ’ ৭৫ মেট্টিক টন । কিন্তু কৃষকের আউশ আবাদের বাধা হয়ে দারায় রিমাল। রিমালের সময় অতি বৃষ্টি এবং পায়রা নদীতে অধিক উচ্চতায় জলোচ্ছাস এবং বাঁধ ধসে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার  ফলে আউশের বীজতলা ৩-৪ ফুট পানিতে তলিয়ে যায়। সপ্তাহখানেক ধরে এভাবে বীজতলা ২ ফুট পানির নীচে  থাকায় উপজেলার অধিকাংশ কৃষকের বীজতলা পচে সম্পূর্ন নষ্ট হয়ে গেছে। সরকারী হিসেবে চাষ করা ৭৫৫ হেক্টর বীজতলার মধ্যে ১৭৯ হেক্টর নষ্ট হওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে অর্ধেক বীজতলা প্রায় সাড়ে ৩শ হেক্টর  নষ্ট হয়েছে বলে সরেজমিন চিত্রে দেখা গেছে। কৃষকরা জানান, আউশ রোপনের এখন ভরা মৌসুম। রিমালের আগে অনেকে তাদের আউশ রোপন শুরু করেছে। এই মুহুর্তে বীজতলা নষ্ট হওয়ায় আমাদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। এই মুহুর্তে নতুন করে বীজতলা তৈরী করে আর আউশ রোপন করতে পারবো না। এতে আমাদের সামনে অনেক দুর্দিন অপেক্ষা করছে।

সোমবার সকালে উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কুকুয়া, কালিপুরা, কৃষ্ণনগর, আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী, গাজীপুর, হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া, উত্তর তক্তাবুনিয়, দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া, গুরুদল, আমতলী সদর ইউনিয়নের ছোটনীলগঞ্জ, চলাভাঙ্গা, চাওড়া ইউনিয়নের বেতমোর বৈঠাকাটা, আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ঘোপখালী, পশুরবুনিয়া ও বালিয়াতলী গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে এখনো শত শত হেক্টর আউশের বীজতলা প্রায় ২ফুট পানির নীচে তলিয়ে রয়েছে। প্রায় দেড় সপ্তাহখানেক ধরে বীজতলা এভাবে  পানিতে তলিয়ে থাকায় তা পচে দুর্গন্দ ছড়াচ্ছে। 

কুকুয়া ইউনিয়নের কুকুয়া গ্রামের কৃষক মো. ইউনুছ মীরা বলেন, বইন্যার আগে আউশ লাগানের লইগ্যা  ৩৫ শতাংশ জমিতে  বীজ তলা করি। বইন্যায় সব তলাইয়া যায়। এহনো দেড় দুই আত পানি জইম্যা রইছে। পানি জইম্যা থাহায় মোর সব বীজতলা পইচ্যা নষ্ট অইয়া গ্যাছে। এহন টাহা আর বীজ পামু কই। আর কি দিয়া ধান লাগামু হেই চিন্তায় আছি। একই গ্রামের অনেছ খা বলেন, মোর ১০ কড়া জমির বীজ নষ্ট অইয়া গ্যাছে।

হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামের ফজলু প্যাদা বলেন, মুই ৩০ শতাংশ জমিতে  ৭৫ স্যার ধান হালাইছি। বইন্যার পানি জইম্যা  হেইয়াসব পইচ্যা নষ্ট অইয়া গ্যাছে। তিনি আরো বলেন, এহন কুম্মে বীজ ধান পামু। হেইয়ার পর আবার বীজ কইর‌্যা চাষ করা মোগো লইগ্যা ব্যামালা কষ্টের।

চাওড়া ইউনিয়নের বৈঠাকাটা গ্রামের মাসুম গাজী, জসিম খান, আমতলী সদর ইউনিয়নের আলতাফ হাওলাদার, ঘোপখালী গ্রামের হোচেন বয়াতি বলেন, ব্যামালা টাহা খরচ কইর‌্যা আউশের বীজ চাষ হরছি। বইন্যায় সব নষ্ট অইয়া গ্যাছে। এহন মোরা আউশ ধান আর লাগাইতে পারমু না। ধান লাগাইতে না পারলে গুরাগারা লইয়া সামনের দিনে কি খামু হেই চিন্তায় আছি।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইছা বলেন, এবছর আমতলীতে রিমালের তান্ডবে বাধ ভেঙ্গে পায়রা নদীর জলোচ্ছাস  এবং অতিরিক্ত বৃষ্টি পানি বীজতলায়  জমে থাকায় ১৭৯ হেক্টর আউশের বীজতলা সম্পূর্ন নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, বিপুল পরিমান আউশের বীজতলা নষ্ট হওয়ায় এবছর আউশ ধান চাষের লক্ষমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এতে ফলনেও বিপর্যয় হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, রিমালের তান্ডবে  আমতলী উপজেলার কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপন করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে  দুর্যোগ ব্যবস্থপনা অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বরাদ্দ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুন:বাসন করা হবে।


আরও খবর