Logo
আজঃ Friday ১৯ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে আবাসিকের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ডেমরায় প্যাকেজিং কারখানায় ভয়বহ অগ্নিকান্ড রূপগঞ্জে পুলিশের ভুয়া সাব-ইন্সপেক্টর গ্রেফতার রূপগঞ্জে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ॥ সভা সরাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত। নারায়ণগঞ্জে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে পুতা দিয়ে আঘাত করে হত্যা,,স্বামী গ্রেপ্তার রূপগঞ্জ ইউএনও’র বিদায় সংবর্ধনা নাসিরনগরে স্বামীর পরকিয়ার,বলি ননদ ভাবীর বুলেটপানে আত্মহত্যা নাসিরনগরে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত ডেমরায় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসুচি পালিত

বিদেশের মাটিতে কৃষিপণ্য সরবরাহ বাড়াণোর লক্ষ্যে : ইরান

প্রকাশিত:Sunday ১২ December ২০২১ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ৪১২জন দেখেছেন
Image

চাল, গম, ভুট্টা ও তেলবীজসহ খাদ্যশস্য আমদানিনির্ভর দেশ ইরান। বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত নানা নিষেধাজ্ঞা থাকায় খাদ্যশস্যের সরবরাহ বাড়াতে চায় দেশটি। এ লক্ষ্যে কাজাখস্তান, ব্রাজিল, রাশিয়া, ইউক্রেন, আজারবাইজান ও ঘানাসহ বিভিন্ন দেশে জমি লিজ অথবা শেয়ার কিনে আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। কয়েক বছর ধরেই দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে। তবে এ পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তা জানা যায়নি। খবর তেহরান টাইমস।

ইরানের সাবেক কৃষিমন্ত্রী মাহমুদ হুজ্জাতি দায়িত্বে থাকাকালে জানিয়েছিলেন, বিদেশের মাটিতে ৮-১০ লাখ হেক্টর জমিতে কৃষিপণ্য আবাদের ব্যাপারে বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। বিষয়টি সরকারি অনুমোদনও পেয়েছে।

ইরানের বর্তমান নির্বাহী কৃষিমন্ত্রী মো. কোরবানি সম্প্রতি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, দেশের বাইরে কৃষিপণ্য আবাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্রাজিল ও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে।


মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পঙ্গু ইরানের ব্যাংক খাত। ফলে দেশটি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চ্যানেল উন্মুক্ত রাখতে বিনিময় ব্যবস্থাকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে। কোরবানি বলেন, নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিন ব্রাজিল, রাশিয়া, নরওয়ে ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু চুক্তি সম্পাদন করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে এসব দেশের সঙ্গে কৃষি খাতে বলিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বেশ কয়েক বছর ধরেই ইরান আধুনিক কৃষি খাত গড়ে তুলতে চেষ্টা চালাচ্ছে।


আরও খবর



চট্টগ্রামে ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ২৩ সিন্ডিকেট

প্রকাশিত:Wednesday ০৩ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ১৯জন দেখেছেন
Image

চট্টগ্রামের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় সরকারি ভূমি অধিগ্রহণে জমির ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনে ২৩টি সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান।

বুধবার (৩ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শহীদ শাহ আলম বীর উত্তম অডিটোরিয়ামে এ তথ্য জানান তিনি।

এ দিন জনৈক নুর চেহের বেগমের একটি অভিযোগের বিষয়ে দুদকের গণশুনানিতে সংস্থাটির কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এ তথ্য দেন মমিনুর রহমান। গণশুনানিতে সরকারি ৪২টি প্রতিষ্ঠানের শতাধিক অভিযোগ নিয়ে শুনানি চলছে।

তবে সিন্ডিকেটে কারা কারা জড়িত তাদের নাম প্রকাশ সম্ভব নয় বলে জানান জেলা প্রশাসক মমিনুর।


আরও খবর



কুমিল্লায় হালিতে ডিমের দাম কমলো ৮ টাকা

প্রকাশিত:Thursday ১৮ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ২৬জন দেখেছেন
Image

কুমিল্লায় একদিনের ব্যবধানে ডিমের দাম হালিতে ৫-৮ টাকা কমেছে। কুমিল্লা মহানগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। তবে লাল ডিমের দাম কমলেও হালিপ্রতি হাঁসের ডিমে বেড়েছে ১০ টাকা।

বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি হালি লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪২-৪৫ টাকা দরে। আর দেশি হাঁস ও মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা করে।

এরআগে মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) লাল ডিম বিক্রি হয়েছে ৫০-৫৫ টাকা হালি। এছাড়া হাঁসের ডিম ৬০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিম ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে শহরতলীসহ বিভিন্ন উপজেলায় খুচরা দোকানগুলোতে এখানো প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকা দামে।

কুমিল্লায় হালিতে ডিমের দাম কমলো ৮ টাকা

রাজগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী মান্না মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ডিমের দাম আজ কমেছে। ডিমের হালি বিক্রি করছি ৪২ টাকা করে। আগে ছিল ৫০ টাকা।

দাম কমার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কম দামে কিনেছি তাই বিক্রিও করছি কমে। আমরা খুব বেশি লাভ করি না। আউটে (বাইরে) যারা দোকানদারি করেন তারা ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি করেন।’

ডিম কিনতে আসা নগরীর মোগলতুলী এলাকার শাহিন জাগো নিউজকে বলেন, হঠাৎ ডিমের দাম বাড়লো। আবার ৩-৪ দিন পর কমেও গেলো। এই দেশে সিন্ডিকেট ভাঙার কি কেউ নেই? যে যার মতো করে মুনাফা কামিয়ে নিচ্ছেন। সরকারের উচিত শক্ত হাতে মুনাফালোভীদের দমন করা।’

কুমিল্লায় হালিতে ডিমের দাম কমলো ৮ টাকা

কুমিল্লা জেলা ও মহানগর ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জাগো নিউজকে বলেন, ডিমের সরবরাহ বেড়েছে। আমরা এখন কম দামে কিনতে পারছি। এজন্য ভোক্তাদের কাছেও কম দামে বিক্রি করা যাচ্ছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কুমিল্লা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, জাগো নিউজে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীতে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির বাজারে বিশেষ তদারকি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় ইচ্ছামতো দামে ডিম বিক্রি ও মূল্যতালিকা জনসম্মুখে প্রদর্শন না করার দায়ে পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ২৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


আরও খবর



৭ কোটি মানুষ দরিদ্র রেখে বেহেশতে থাকা যায় না: রব

প্রকাশিত:Sunday ১৪ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ১২জন দেখেছেন
Image

জনগণের দুর্দিন ও অর্থনৈতিক সংকটে সরকারকে ‘ক্ষতিকর’ বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব। রোববার (১৪ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ এখন দরিদ্র (সরকারি হিসাবে), আর চার কোটির মতো মানুষ দরিদ্র হওয়ার চরম ঝুঁকিতে আছে। এ অবস্থায় ‘আমরা সুখে আছি, বেহেশতে আছি’ বলা কোনোক্রমেই বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহানুভূতি বা সহমর্মিতা বোঝায় না এবং এতে দেশের প্রকৃত চিত্রও প্রতিফলিত হয় না। বরং এমন উক্তি বিবেকবর্জিত অবজ্ঞা, অবহেলা প্রদর্শন ও বিদ্রুপের শামিল।

তিনি বলেন, যেখানে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, খাদ্য ঘাটতি, সম্পদের অপর্যাপ্ততা, স্বল্প আয়ের কারণে জনজীবন বিপন্ন এবং মানবাধিকার যখন চরম সংকটে উপনীত তখন এমন অবাস্তব কথা নিষ্ঠুরতার বহিঃপ্রকাশ।

রব বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সংকট কাটানোর জন্য সরকার যখন বিভিন্ন সংস্থার কাছে ঋণ চাচ্ছে তখন বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ভালো আছে বলা বিবেচনাপ্রসূত বক্তব্য নয়। এসব বক্তব্য জনজীবনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকায় রাজনীতিতে নৈরাজ্যের জন্ম দিচ্ছে। এটা সুস্থ রাজনীতির জন্য মঙ্গলজনক নয়।

জেএসডি সভাপতি বলেন, এ ধরনের রাজনীতির মাধ্যমে সরকার নিজেই নিজের সর্বনাশ ডেকে আনছে।

তিনি বলেন, দ্রুত ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণ, আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ, কৃষি উৎপাদনে ভর্তুকি ও হতদরিদ্র মানুষকে খাদ্যসহায়তা দিতে রেশনিংয়ের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে।


আরও খবর



স্বস্তি ফিরুক জনজীবনে

প্রকাশিত:Monday ১৫ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ২২জন দেখেছেন
Image

আগস্ট বাংলাদেশের মানুষের জন্য শোকের মাস। ১৫ আগস্ট শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই শোকের দিন। একটি রাষ্ট্রের স্থপতি ও রাষ্ট্রপতিকে সপরিবারে হত্যার মতো নির্মমতা গোটা বিশ্বেই বিরল। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার স্বজন, এমনকি শিশু রাসেলকেও হত্যা করেছিল।

আসলে ঘাতকরা চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর কোনো উত্তরসূরি যেন বেঁচে না থাকে। কিন্তু দেশের বাইরে ছিলেন বলে, বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার নাগাল পায় ঘাতকের বুলেট। বাঙালি জাতির সৌভাগ্য যে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বেঁচেছিলেন। ঘাতকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের অগ্রগতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা এনে দিলেও অর্থনৈতিক মুক্তির লড়াই শেষ করে যেতে পারেননি। শেখ হাসিনা তার পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আজ অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। আমাদের আফসোস, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ আজ যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, আরও অনেক আগেই হয়তো আমরা সেখানে চলে যেতে পারতাম।

শেখ হাসিনা যেমন তার পিতার স্বপ্ন পূরণের লড়াই করছেন। ঘাতকরাও কিন্তু তাদের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছিল। বারবার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। সবচেয়ে বড় আঘাতটি এসেছিল এই আগস্টেই।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় ঘাতকরা গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। দলীয় নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে পারলেও আইভী রহমানসহ ২৪ জনকে প্রাণ দিতে হয়েছিল ওই হামলায়। তাই আগস্ট মানেই আমাদের শোক, আগস্ট মানেই বেদনা। এ লড়াই আসলে কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের নয়, এ লড়াই আদর্শের লড়াই। বাংলাদেশের সাথে বাংলাদেশ বিরোধীদের লড়াই, অসাম্প্রদায়িক চেতনার সাথে সাম্প্রদায়িক শক্তির লড়াই, উন্নয়নের সাথে অস্থিতিশীলতার লড়াই।

শোকের চাদরে ঢেকে আবার এসেছে আগস্ট। তবে এবারের আগস্টটি একটু অন্যরকম। শোকের সাথে মিশে গেছে অস্থিরতা, আতঙ্ক আর হাহাকার। করোনার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এ বছর চাপ তৈরি হয়েছিল। সে চাপ সামলে ওঠার আগেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির প্রবলতর চাপ সৃষ্টি করে। সে চাপ থেকে মুক্ত নয় বাংলাদেশও।

রিজার্ভ কমে যাওয়া, ডলারের বাজারে অস্থিরতায় অর্থনীতিতেও একধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকে হু হু করে। এই যখন অবস্থা, তখন গত ৫ আগস্ট মধ্যরাতে জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি যেন বাজারের আগুনে ঘি ঢালে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, বিপিসির টানা লোকসান এবং পাচার ঠেকানোর যুক্তিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।

সরকার স্বীকার না করলেও অনেকে বলছেন, আইএমএফ’র ঋণ পাওয়ার শর্ত পূরণ করতেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। সরকার আসলে এই খাতে শূন্য ভর্তুকির দিকে আগাচ্ছে। জ্বালানি তেলে দাম বাড়ানোর প্রভাব সবখাতেই পড়ে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সবকিছুর দামই বেড়ে গেছে। এমনিতেই আকাশে উঠে থাকা দ্রব্যমূল্য এখন উড়ছে।

সমস্যা হলো, সরকার নতুন বাসভাড়া ঠিক করলেও বাসমালিকরা আদায় করছেন তারচেয়েও বেশি। জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে যে সবজির দাম কেজিতে এক টাকা বাড়ার কথা, সেটা বাড়ছে ২০ টাকা। চাল, ডিম, মুরগিসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে অন্য পণ্যের দাম যতটা বাড়ার কথা, বাড়ছে তারচেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু সাধারণ মানুষের আয় বাড়ছে না। তাই তাদের নাভিশ্বাস অবস্থা।

এই সময়ে সরকারের উচিত সহানুভূতি নিয়ে জনগণের পাশে থাকা। জ্বালানি তেলের দাম কেন বাড়াতেই হলো, তার যৌক্তিক এবং মমতা মাখানো ব্যাখ্যা দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী নিজেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু সমস্যা হলো মন্ত্রীরা একেকজন একেরকম কথা বলে পরিস্থিতি আরও হাস্যকর করে তুলছেন।

মন্ত্রীদের কথায় যেন সাধারণ মানুষের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা পড়ছে। বিশ্ব অর্থনীতির যে চাপ তাতে কেউই ভালো নেই। সবাই নিজ নিজ উপায়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম এ মোমেন যখন বলেন, অন্য দেশের তুলনায় আমরা বেহেশতে আছি। তখন আমরা কষ্ট পাই। আমরা বুঝি, সাধারণ মানুষের হাহাকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্পর্শ করছে না অথবা তিনি বাস্তবতা ভুলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন।

এর আগে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘গ্রামগঞ্জের কোনো মানুষ না খেয়ে নেই। প্রত্যেক মানুষ খেতে পারছে। প্রত্যেক মানুষের গায়ে জামাকাপড় আছে।’ পরিকল্পনামন্ত্রী এম এম মান্নান বলেছেন, ‘এখনো কেউ জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় মারা যায়নি, আশা করি মরবেও না।’ মন্ত্রীদের এই অসংবেদনশীল কথাবার্তা মানুষের বেদনাকে আরও বাড়াচ্ছে। সমস্যা যতটা জটিল, মানুষের বেদনা তারচেয়ে বেশি হয়ে যাচ্ছে।

সবমিলিয়ে দেশে একটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সবাই সারাক্ষণ জানতে চাইছে, দেশে কী হচ্ছে? সবার মধ্যেই আতঙ্ক ভর করেছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সাথে কোনো সম্পর্ক না থাকলেও তারপর থেকে কমছে শেয়ারবাজারের সূচক। মানুষের এই আতঙ্কের সুযোগে চলছে নানা অপপ্রচারও। বাংলাদেশ কবে শ্রীলঙ্কা হবে, তার অপেক্ষায় আছেন অনেকেই। আসল সমস্যটা হলো, উন্নয়নের গল্প শোনাতে শোনাতে সরকার মানুষের প্রত্যাশা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই অল্প একটু এদিক সেদিক হলেই হাহাকার পড়ে যায়।

একসময় দেশে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হতো। এখন ৪-৫ ঘণ্টার পরিকল্পিত লোডশেডিংয়েও আমরা অতিষ্ঠ হয়ে যাই। ২০০১ সালে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল এক বিলিয়ন ডলার। বর্তমান সরকারের আমলে সেটা উঠেছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলারে। সেটা যখন ৪০ বিলিয়ন ডলারের একটু নিচে নামে, আমরা বলি দেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাচ্ছে। অথচ শ্রীলঙ্কার রিজার্ভ মাত্র ২ বিলিয়ন ডলার। এই সময়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের উচিত, সংকটের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরা। কোনো আশার বেলুন ফুলানো নয়। কেন রিজার্ভ কমছে, কীভাবে বাড়ানো সম্ভব, কেন জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতেই হলো, কেন সরকারকে আইএমএফ’র কাছ থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে, অর্থনীতর বাস্তব সংকট কোথায়- এই বিষয়গুলোতে সরকারের পরিষ্কার ও বিশ্বাসযোগ্য বক্তব্য দরকার।

তথ্যের ঘাটতি থাকলে সেখানে গুজব আর অপপ্রচারের ডালপালা মেলে। আর আতঙ্ক হলো সংক্রামক। অর্থনীতির সূচকের চেয়ে বাস্তবে আতঙ্ক অনেক বেশি। এই জায়গায় সরকারের আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল হতে হবে। বাজারে অস্বাভাবিক দাম বাড়ার বিষয়টি কঠোর হাতে দমন করতে হবে। বাজারে নজরদারি বাড়াতে হবে। মানুষকে দরদ দিয়ে বোঝাতে হবে পরিস্থিতির বাস্তবতা।
ডলারের বাজারে অস্থিরতা, অর্থনীতির চাপ, নিত্যপণ্যের বাজারের পাগলা ঘোড়া যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রেখে মানুষের জীবনযাপনকে যতটা সম্ভব সহনশীল রাখতে হবে। আগস্ট যেন শোকের সাথে স্বস্তিও আনে মানুষের জীবনে।

১৩ আগস্ট, ২০২২

লেখক: বার্তাপ্রধান, এটিএন নিউজ।


আরও খবর



লজেন্স খেয়ে মাসে আয় ৫ লাখ টাকা

প্রকাশিত:Friday ০৫ August ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ১৬ August ২০২২ | ৩৬জন দেখেছেন
Image

ছোটরা তো বটেই, বড়দের বেলায়ও ক্যান্ডি বা লজেন্সের লোভ সামলানো কঠিন। আট থেকে আশি, সকলের কাছেই প্রিয় বস্তু টি। নানা রঙের, নানা স্বাদের লজেন্স যেমন স্বাদ মেটায়, তেমন মন ভালো করতেও সেরা। তবে আপনি যদি এটিই নয় চাকরি, আর এর জন্য আপনি বেতনও পাবেন মাসে ৫ লাখ টাকা।

অবিশ্বাস্য হলেও সম্প্রতি এমনই এক চাকরির খবর মিলেছে। এক বিখ্যাত লজেন্স প্রস্তুতকারক সংস্থা খুঁজছে একজন চিফ ক্যান্ডি অফিসার। এই চাকরির বিজ্ঞাপন শোরগোল ফেলে দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আরও মজার বিষয় হচ্ছে প্রার্থীর বয়স হতে হবে ৫ বছরের উপরে।

jagonews24

কানাডিয়ান সেই কোম্পানিতে কাজ করতে হবে লজেন্স টেস্টার হিসেবে। অর্থাৎ লজেন্স প্রস্তুতকারী সংস্থার তৈরি লজেন্স টেস্ট করতে হবে। এর স্বাদ মান নির্ভর করবে আপনার জিভের স্বাদের উপর। প্রতিদিন আপনাকে খেতে হবে ১০০টিরও বেশি লজেন্স। সেই হিসাবে গড়ে প্রতি মাসে সাড়ে তিন হাজার লজেন্স খেতে হবে। এরপর প্রতিটি লজেন্সের ক্ষেত্রে তার গুণগত মান ও স্বাদ নিখুঁতভাবে বর্ণনা করতে হবে আপনাকে।

আপনার দেওয়া সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই তৈরি হবে লজেন্স। যা বিশ্ব বাজারে ছড়িয়ে পড়বে। তাই একটু এদিক থেকে ওদিক হলেই বিপদ। এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য কানাডার ওই লজেন্স কোম্পানি আপনাকে বছরে ৬০ লাখের বেশি টাকা বেতন দেবে।

jagonews24

গত মাসে এই চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়েছিল ওই কোম্পানি। তার পর থেকেই আবেদনের ঢল নেমেছে। ছোট থেকে বড় সকলেই আবেদন জানাচ্ছে।কোম্পানির তরফে জানানো হয়েছে, অনেক অভিভাবকই তাঁদের বাচ্চাদের জন্য আবেদন করছেন।

বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে ৫ বছরের বেশি বয়স হলেই তবেই এই চাকরিতে আবেদন করা যাবে। আগামী ৩১ অগস্ট পর্যন্ত এই পদে চাকরির জন্য আবেদন করা যাবে। এরই মধ্যে ৮ বছরের এক খুদে আবেদন করেছে এই পদের জন্য।

jagonews24

শুধু এই লজেন্স কোম্পানিই নয় বিশ্বের প্রায় সব ধরনের খাবার প্রস্তুতকারক সংস্থা টেস্টার নিয়োগ দেয়। চকলেট, স্ন্যাকস, কফি উৎপাদন সংস্থাগুলোতে অসংখ্য টেস্টার থাকে। তাদের দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই তৈরি হয় ফাইনাল পণ্যটি।

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার


আরও খবর