Logo
আজঃ রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম
মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিরা পাবে না তো রাজাকারের নাতিরা পাবে? কর্মীদের দক্ষ করে বিদেশে পাঠাতে হবে : প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশকে কত বিলিয়ন অনুদান-ঋণ দেবে চীন, জানালেন প্রধানমন্ত্রী নাসিরনগরে খুনের মামলার বাদীর এখন দিন কাটছে আতংকে মধুপুরে ক্লিনিং স্যাটারডে কার্যক্রম অনুষ্ঠিত এবার কোটা আন্দোলনের পক্ষে কথা বললেন আয়মান সাদিক ভারতে পাচার হওয়া ৫ বাংলাদেশি সাজাভোগ শেষে দেশে ফিরেছে শিক্ষার্থীরাই হবে আগামী বাংলাদেশের কর্ণধার: ধর্মমন্ত্রী দেশের অর্থনীতি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী: প্রধানমন্ত্রী বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ সামন্ত লাল সেন

বাগেরহাটে হরিণের মাংসসহ দুই যুবক আটক

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | ১৫০জন দেখেছেন

Image

বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাটের রামপালে হরিণের মাংসসহ শওকত সরদার (৩৭ও শেখ হেকমত আলী (৩৯নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে রামপাল উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়নের গিলাতলা বাজার সংলগ্ন ব্যাংকের মোড় থেকে এদের আটক করা হয়। এসময় আটককৃতদের কাছ থেকে সাড়ে ৬ কেজি হরিণের মাংস ও তাদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করে পুলিশ।


আটককৃতরা হলেন, মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা গ্রামের হাসান সরদারের ছেলে শওকত সরদার  এবং রামপাল উপজেলার ব্রী চাকশ্রী এলাকার শেখ আশরাফ আলীর ছেলে শেখ হেকমত আলী। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের পূর্বক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আশরাফুল আলম।


তিনি বলেন, সুন্দরবন থেকে শিকার করা হরিণের মাংস বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছিল এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে সাড়ে ৬ কেজি মাংস জব্দ করা হয়েছে। মামলা দায়ের পূর্বক আটককৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মাংস ধ্বংস করা হয়েছে।


আরও খবর



মাগুরায় শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে কোরবানীর পশুর হাট ইজারাদারদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ক্রেতা বিক্রেতারা

প্রকাশিত:শনিবার ১৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | ১৪৪জন দেখেছেন

Image

স্টাফ রিপোর্টার মাগুরা থেকে:মাগুরায় শেষমুহুর্তে জমে উঠেছে কেরবানীর পশুর হাট। আর মাত্র দুদিন বাকি, তার পরই মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তর ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হবে।  চার উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, ছোট বড় সকল বয়সী মানুষ গরু ও ছাগল কিনতে হাটে গিয়ে ভিড় করছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে হাটগুলোতে চলছে পশু কেনাবেচা। দেশি ও বিভিন্ন জাতের ছোট ও মাঝারি আকারের গরু ও ছাগলের চাহিদা বেশি দেখা গেছে। মধ্যবিত্তরা তাদের পছন্দ মত স্বল্প বাজেটে পছন্দের পশুটি ক্রয় করছেন।

এবছরেও ছোট ও মাঝারি আকারের পশুর চাহিদা বেশি। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ রয়েছে এবছর কোরবানি ঈদের হাটে পশুর দাম একটু বেশি। ছাগল কিনতে এসেও একই কথা জানাচ্ছিলেন ক্রেতারা। তবুও ঈদ যেহেতু সন্নিকটে তাই দামাদামি কথা মাথায় বেশি না রেখে একটু চড়া হলেও পছন্দের পশুটি কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা।

মাগুরার সাপ্তাহিক পশু হাট কাটাখালী,আলমখালী, রামনগর,আলোকদিয়া, বেথুলিয়া, গাবতলা ও খামারপাড়া,  লাঙ্গলবাঁধ, সারঙ্গদিয়া, আড়পাড়া পশুর হাটে  ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভিড় বাড়ে ঈদকে সামনে রেখে। ছাগল গরু নিয়ে হাটে হাটে যাচ্ছে   মালিক, খামারিরা। আবার হাটে হাটে ঘুরছে পশু ক্রেতারা তাদরে পছন্দের ছাগল গরু কিনতে। বিক্রেতারা  বলছেন পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ার কারণ গরু ছাগলের দাম বেড়েছে। তবে বেচাকেনা ভালো হচ্ছে বলেও জানান তারা। এবছর পশু কেনার খরচ যেমন বেশি অন্যদিকে হাটে খাজনা একটু বেশি দিতে হচ্ছে। এজন্য তারা বাজারের উর্ধ্বমুখী অবস্থাকেই দায়ী করছেন। সকল পশুর হাটেই ইজারাদারদের অত্যাচারে ক্রেতা বিক্রেত্রারা নাজেহাল ইচ্ছা খুশীমত আদায় করছে হাসিলের টাকা। এ অবস্থা নতুন নয়, দীর্ঘদিনের হলেও কোন ব্যবস্থা নেই। কারন হাটের নিলাম কেনার সময় থেকেই শুরু হয় দুর্নীতি। নিলামে ডাক ওঠে যা তা সরকারি  খাতায় ওঠানোর সময় কমে যায়।

হাট মালিকরা বলছেন, ইজারায় টাকা বেশি দিয়ে হাট কিনতে হয়েছে তাদের। যার ফলে অন্য বছরের চেয়ে এবার পশু প্রতি সামান্য কিছু টাকা এবার বেশি নেওয়া হচ্ছে। তবে এটা অবশ্যই সকলের সাধ্যের মাঝে এবং এতে ক্রেতারা কেউ অসন্তুষ্ট নয় বলেও জানান হাট কর্তৃপক্ষের লোকজন।


আরও খবর



মধুপুরের এক মাদকসেবীকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত

প্রকাশিত:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | ১৭১জন দেখেছেন

Image

বাবুল রানা মধুপুর টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ-

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলাধীন আউশনারা গ্রামে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় শান্তি বিনষ্টের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এক মাদকসেবিকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।সোমবার (২৪জুন) বিকাল ৪টার দিকে আউশনারা গ্রামে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় শান্তি বিনষ্টের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তকে সহিংস অবস্থায় দেখা যায় এবং তল্লাশিঅন্তে তার কাছে গাঁজার পুরিয়া পাওয়া যায়।


অভিযুক্তকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ (একশত) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন মধুপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া। তিনি যোগদান করেই মধুপুরে মাদক নিয়ন্ত্রণে এক বিশাল ভুমিকা রাখলেন। তার এই সাহসী ভুমিকার কারণে মধুপুর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এমন পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে মাদক বিক্রি এবং মাদক সেবন উভয়ই খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাবে।এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেছেন  মধুপুর থানার চৌকস পুলিশের একটি দল।

-খবর প্রতিদিন/ সি.ব


আরও খবর



ফুলবাড়ীতে ট্রাক ও গরুবাহী নছিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২, আহত ৫

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | ১১৪জন দেখেছেন

Image

ফুলবাড়ী, দিনাজপুর প্রতিনিধি:দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পণ্যবাহী ট্রাকের সঙ্গে গরুবাহী নছিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নছিমন চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পাঁচজন এদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

গত শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে ফুলবাড়ী-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ফুলবাড়ী উপজেলার রাজারামপুর ঘাটপাড়া আদর্শ কলেজ পাড়া সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা দুইজন হলেন, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার করিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে নছিমন চালক মিনহাজুল ইসলাম (৩৮) ও একই উপজেলার নওনা গ্রামের গরু ব্যবসায়ী মোকলেছুর রহমান (৪২)। এ ঘটনায় আহত পাঁচজন হলেন, ট্রাক চালক রবিউল ইসলাম (৪৫), জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার গরু ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন (৬০), ফরিদ উদ্দিন (৪৬), নজরুল ইসলাম (৪২) ও আবুল কালাম (৪০)। এদের মধ্যে ট্রাক চালকের নাম পাওয়া গেলেও পরিচয় পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলেন, আমবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা গরু বাহী নছিমন পাঁচবিবি যাওয়ার পথে ফুলবাড়ী থেকে দিনাজপুর গামী পণ্য বোঝাই ট্রাক (ঢাকা-মেট্রো-ট-১৮৯৩৮৮) ট্রাকের সঙ্গে ফুলবাড়ী-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ফুলবাড়ী রাজারামপুর ঘাটপাড়া আদর্শ কলেজপাড়া সংলগ্ন সড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই নছিমন চালক মিনহাজুল ইসলাম (৩৮) ও একই উপজেলার নওনা গ্রামের গরু ব্যবসায়ী মোকলেছুর রহমানের (৪২) মৃত্যু ঘটে। খবর পেয়ে ফুলবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মী ও পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।   

দুর্ঘটনা থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শী পাঁচবিবি উপজেলার রামনগর এলাকার গরু ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, এলাকার ৮জন গরু ব্যবসায়ী গতকাল শুক্রবার (৫ জুলাই) ভোরে পাঁচবিবি থেকে আমবাড়ী গরুহাটে আসেন। ৯টি গরু কিনে একই নছিমন যোগে বাড়ী ফেরার পথে ফুলবাড়ীতে ট্রাকের সঙ্গে নছিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় ওই হাতাহতের ঘটনা ঘটেছে। 

একই দিনে সকালে ফুলবাড়ী দিনাজপুর মহাসড়কে পাঁচবাড়ীতে নাবিল এন্টারপ্রাইজ ও ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখী সংঘর্ষে ঘটনা স্থলে ৪জন ও পরে আর ২ জন মারা যায়। 

ফুলবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দুর্ঘটনার এক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন তার উদ্ধার কর্মীরা। এ ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এই কর্মকর্তা।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তফিজার রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনাসহ হতাহতদের উদ্ধার পূর্বক যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে দেয়। এ ব্যাপারে সড়ক আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। নিহতদের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


আরও খবর



জাল-নৌকা-ই ঠিকানা ভোলার জেলে পল্লীর শিশুদের

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | ১০৫জন দেখেছেন

Image

শরীফ হোসাইন, ভোলা বিশেষ প্রতিনিধি:ভোলার মেঘনা নদীর বুকে জেগে উঠা ভোলারচর, মাঝেরচর, মদনপুর চর, চটকিমারা চর, রামদাসপুর এবং মেঘনার কুলের বিভিন্ন বেরি বাঁধ এলাকার জেলেপাড়া। সেখানে হাজার হাজার জেলেদের বসবাস। নদী ভাঙ্গনে দিশেহারা ঐ জনপদের বসতি ছাড়া আর কিছু নেই। নদীতে মাছ শিকার ও কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। পৈত্রিক পেশাকে ধরে জীবিকা নির্বাহ করছে হাজার হাজার পরিবার। এসব অঞ্চলে প্রাথমিক বা কিছু জায়গায় মাধ্যমিকের আলো পৌঁছালেও যেন শিক্ষা গ্রহণ না করেই জেলে বা কৃষক হিসেবে গড়ে উঠছে তাদের শিশুরা। দারিদ্র্যের সংসারে একটু আয়ের আশায় এখানকার শিশুরা খুব কম বয়সেই বেছে নিতে বাধ্য হয় জেলে অথবা কৃষি জীবন। যেখানে তাদের এই বয়সে হাসি-খুশি ও আনন্দ-উল্লাসে বেড়ে ওঠার কথা, সেখানে শুধুই দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত। যে বয়সে  শিশুটির হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, সেই শিশুটির হাতে আজ মাছ ধরার জাল। দিন কাটে তার নদীর বুকে। সন্তানদের পড়ালেখা করানোর প্রতি আগ্রহ নেই তাদের বাবা মায়ের। আধুনিক সভ্যতা থেকে পিছিয়ে পড়া এই জনপদের অভিভাবকদের অসচেতনতা ও নদী ভাঙ্গনের কারণে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে না এখানকার শিশুরা। চরাঞ্চল ও  জেলে পল্লীর অধিকাংশ শিশুদের জীবনের গল্প এমন।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলে নৌকায় কাজ করা অধিকাংশের বয়স ৮ থেকে ১৫ বছর। জীবনের প্রয়োজনে তারা এই বয়সে হয়ে ওঠে দক্ষ মাঝি বা জেলে। এই শিশুদের কেউ বাবার সঙ্গে জাল টানে, কেউ নৌকার বৈঠা ধরে, কেউবা জাল থেকে মাছ ছাড়িয়ে ঝুড়িতে তোলে। আকৃতি অনুযায়ী মাছ বাছাই করার কাজও তারা করে। এভাবেই নিচ্ছে তারা দক্ষ জেলেতে পরিণত হওয়ার শিক্ষা। মাঝে মাঝে বাবার কাজের দায়ভারও তাদের বইতে হয়। ধরা মাছ নিয়ে বাবা হাটে গেলে বাবার অনুপস্থিতিতে উত্তাল নদীতে নৌকা নিয়ে চলে যায় শিশুটি। জোয়ার ভাটা ওদের মুখস্থ। দিন শেষে এই মাছ বিক্রি করে যা পায় তা দিয়ে কিছুটা হলেও উপকৃত হয় তাদের পরিবারের মানুষগুলো।

ভোলার খাল, ইলিশা বেরিবাঁধ, মাঝেরচর, মদনপুরসহ এসব অঞ্চলের জেলে পরিবারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রতিনিয়ত অনিশ্চতায় বিবর্ণ হয়ে ওঠে জেলে পল্লীর হাজারো শিশুর শৈশব। শিশুশ্রমের বেড়াজালে বন্দিজীবন আর বাবার কষ্টের সঙ্গী হতে ষষ্ঠ শ্রেণিতে আর পড়া হয় না অধিকাংশ শিশুর। ফলে কোমলমতি সব শিশুর কাঁধে ওঠে সংসারের বোঝা। বাবা-মা ছোট ভাইবোন নিয়ে বেঁচে থাকাই তখন তাদের জীবনের মূলমন্ত্র। চর অঞ্চলের  অনেক শিশুর স্কুলে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও সম্ভব হয়ে ওঠে না যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায়।

ইলিশা তেমাথা ঘাটের কাছেই বাবার মাছ ধরার সঙ্গী হিসেবে ছিলেন ১০ বছরের শিশু হাসিব। হাসিবের  ভাষ্য ‘স্কুলে যাইতে তো ইচ্ছা করে তয় কামের লাইগ্যা যাইতে পারি না। জোয়ার আওয়ার আগেই জাল পাতি, আর ভাটায় পানি টানলে মাছ লইয়া আইতে আইতে স্কুল ছুটি হইয়া যায়।

এ ঘাটেই কথা হয় আরো কিছু জেলে শিশুর সঙ্গে। মনির, আব্বাস ও রুবেল নামের এই শিশুরাও বলছে, বাবার কাজের সঙ্গী হতে হয় বলেই তারা স্কুলে যেতে পারে না। মদনপুরের কয়েকজন জেলের সাথে কথা বললে তারা জানান, মাছ ধরা আমাদের পৈত্রিক পেশা। এই পেশাকে ধরে রেখেছি এখনো। আমাদের সন্তানরা সেই পেশা ধরে রাখবে। ইচ্ছা থাকলেও ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা করানোর খরচ নেই। তাই মাছ ধরার কাজ শিখাচ্ছি। 

ছেলে বেলা থেকে কাজ শিখলে বড় হয়ে একজন দক্ষ মাঝি হিসাবে নিজেদের গড়তে পারবে ওরা। রাজাপুরের জেলে ইউসুফ (৪৫) বলেন, সব পরিবারই এখন বোঝে যে, তাদের পোলাপাইনগুলারে পড়ানো উচিৎ। কিন্তু পেটের তাগিদে সবাই তো পড়াইতে পারে না। 

ভোলার খালের মাছ ব্যবসায়ী আরিফ জানান, নৌকায় একজন জেলের পক্ষে জাল টেনে মাছ ধরা কষ্টকর। মাছ ধরতে হলে আরো লোকের দরকার হয়। দরিদ্র জেলেরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার পরিবারের মানুষগুলোকে সহকারী হিসেবে ব্যবহার করে। মূলত এই কারণে শিশুগুলোকে স্কুল ছাড়তে হয়।

স্থানীয় দৈনিক ভোলার বাণী’র সম্পাদক মাকসুদ রহমান বলেন, জেলে পল্লীর শিশুদের শিক্ষিত করতে হবে এমন প্রবণতা কম। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, দরিদ্র ও অভাবী মানুষের বিচরণ বেশি। শিশুদের শিক্ষিত করার প্রবণতা তখন বৃদ্ধি পাবে যখন সমাজ থেকে অভাব দূর করা যাবে। প্রতিটি শিশুর জীবনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পরিবারকে সচেতন করতে পারলে কমে আসবে শিক্ষাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা।


আরও খবর

আমতলীতে ৩দিন ব্যাপী কৃষি মেলা শুরু

বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪




মিয়ানমার সীমান্ত কঠোর নজরদারিতে রয়েছে: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত:রবিবার ১৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | ১৬৬জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের,বলেছেন মিয়ানমার সীমান্তে কঠোর নজরদারি করছে সরকার।

রোববার (১৬ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যে ব্যর্থ দল, তা তাদের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি দেওয়ার মধ্যদিয়ে প্রমাণ হয়। যারা মাঠে ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করা হয় না বিএনপিতে। কারণ দলটির মধ্যে গণতন্ত্র নেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কাউন্সিল ছাড়া দলীয় কাঠামোতে পরিবর্তন হয় না আওয়ামী লীগে। অথচ বিএনপিতে লন্ডনে বসে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে কমিটি হয়।

তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন। এ পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই ফখরুলের।

কাদের বলেন, কয়েক দিন আগে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন সেন্টমার্টিনে আমাদের খাদ্যবাহী জাহাজ নিয়মিত যাতায়াত করছে। আলোচনার মাধ্যমে আমরা সমস্যার সমাধান চাই।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির প্ররোচনা দেওয়ার তো কোনো দরকার নেই। গায়ে পড়ে মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধ বাধানোর কোনো প্রয়োজন নেই বাংলাদেশের। সেন্টমার্টিন দখল হচ্ছে  এসব তথ্য সঠিক নয়; এসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।


আরও খবর