Logo
আজঃ Friday ১৯ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে আবাসিকের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ডেমরায় প্যাকেজিং কারখানায় ভয়বহ অগ্নিকান্ড রূপগঞ্জে পুলিশের ভুয়া সাব-ইন্সপেক্টর গ্রেফতার রূপগঞ্জে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ॥ সভা সরাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত। নারায়ণগঞ্জে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে পুতা দিয়ে আঘাত করে হত্যা,,স্বামী গ্রেপ্তার রূপগঞ্জ ইউএনও’র বিদায় সংবর্ধনা নাসিরনগরে স্বামীর পরকিয়ার,বলি ননদ ভাবীর বুলেটপানে আত্মহত্যা নাসিরনগরে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত ডেমরায় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসুচি পালিত

আলেম-ওলামাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা-ভক্তি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত:Saturday ২৭ November ২০২১ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ৩৫৮জন দেখেছেন
ডেস্ক এডিটর

Image


আলেম-ওলামাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যথেষ্ট শ্রদ্ধা-ভক্তি রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।শনিবার হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ আয়োজিত ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী হেফাজতে ইসলাম নিয়ে ভাবেন। একজন ধার্মিক মুসলিম হিসেবে শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। তিনি সকালে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করে কাজ শুরু করেন। আলেম-ওলামাদের প্রতি তার যথেষ্ট শ্রদ্ধা-ভক্তি রয়েছে। আপনাদের মতো প্রধানমন্ত্রী শফী সাহেবকে (শাহ আহমদ শফী) অত্যন্ত ভালোবাসতেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা বলেছেন হেফাজত অরাজনৈতিক দল, হেফাজত রাজনীতি করে না, নির্বাচনে যায় না। কিন্তু বাইরে থেকে দুষ্কৃতিকারীরা এসে আপনাদের অপবাদ অথবা কুমন্ত্রণা দিচ্ছে। সেখানে আপনারা ভুল করছেন অথবা ভুল করে ফেলেছেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা বারবার বলতে চাই আপনারা আধ্যাত্মিক লাইনের চর্চা করেন, কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী চলেন। আপনারা যেহেতু অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, সেহেতু কেন আপনাদের মাঝে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঘটে? আপনাদের আরো সাবধান হওয়া উচিত।

সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন- হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী, মহাসচিব নুরুল ইসলাম।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আতাউল্লাহ হাফেজ্জি, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, সাজিদুর রহমান, ইয়াহইয়া, তাজুল ইসলাম, আব্দুল আওয়াল প্রমুখ।

 

-খবর প্রতিদিন /সি.বা 


আরও খবর



রূপগঞ্জে অজ্ঞাত যুবতীর লাশ উদ্বার

প্রকাশিত:Wednesday ২০ July ২০22 | হালনাগাদ:Wednesday ১৭ August ২০২২ | ৯৫জন দেখেছেন
Image

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ-মোঃ আবু কাওছার মিঠু 


নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া নামা বাজারের পরিত্যাক্ত ঘরের কক্ষ থেকে অজ্ঞাত যুবতীর (২৪) মাথা থেতলানো অর্ধনগ্ন লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল ২০ জুলাই বুধবার দুপুরে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ যুবতীর এ লাশ উদ্বার করে। 


রূপগঞ্জ থানার এস আই পংকজ কান্তি সরকার জানান, মুড়াপাড়া নামা বাজার শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় হাজী মোঃ জাফর আলী ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড রিপিয়ারিং ডগইয়ার্ডের পাশে মঙ্গলখালী এলাকার আব্দুল আজিজ মিয়ার পরিত্যাক্ত ঘরে যুবতীর লাশ দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে যুবতীর অর্ধনগ্ন লাশ উদ্বার করে।

এ সময় লাশের পাশ থেকে চিপসের খালি প্যাকেট, কোমল পানীয়র খালি বোতল ও যুবতীর মাথা থেতলানোর ব্যবহৃত ইট জব্দ করা হয়। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে ধর্ষণের পর যুবতীকে হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্বার করে নারায়ণগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে । এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে ।


আরও খবর



মৃত্যুর পর মানুষের কবরে কী ঘটে?

প্রকাশিত:Sunday ২৪ July ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১৭ August ২০২২ | ৩০জন দেখেছেন
Image

সাধারণ মানুষের মতো মুমিনের মৃত্যু হবে না। আল্লাহ তাআলা ঈমানদার বান্দাদের সুন্দর ও উত্তম মৃত্যু দান করবেন মর্মে হাদিসে বর্ণনা করেছেন নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। মৃত্যুর পর মুমিন বান্দার বিশেষ চাহিদা থাকবে। মুমিন বান্দা মারা গেলে তাদের রূহ আল্লাহর কাছে কী চাইবে?

মৃত্যুর স্বাদ নেবে না- এমন কোনো প্রাণী নেই। কুরআনের বর্ণনায় প্রত্যেককেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই; যদি তোমরা সুউচ্চ-সুদৃঢ় দুর্গেও অবস্থান কর।’ (সুরা নিসা : আয়াত ৭৮)

এ কারণেই বেশি বেশি মৃত্যুর কথা স্মরণ করে পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ ব্যস্ত থাকে মুমিন। মনে হয় যেন তারা দুনিয়াতেই জান্নাতের সুঘ্রান পায়। নিশ্চিত মৃত্যুর আগে হাদিসের এ বর্ণনা মুমিন মুসলমানের জন্য অনুপ্রেরণা-

মুমিনের মৃত্যুর বর্ণনা, কবরের প্রশ্নোত্তর, কবরের প্রশান্তি-নেয়ামত ও মুমিন বান্দার আত্মার চাহিদা সম্পর্কে দীর্ঘ একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

হজরত বারা ইবনে আজেব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে এক আনসারি সাহাবির জানাজায় গেলাম এবং তাঁর কবর পর্যন্ত পৌঁছলাম। তখনও তাঁকে কবরে শোয়ানো হয়নি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে বসলাম। যেমন আমাদের মাথার ওপরে পাখি বসে আছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে একটি লাঠি ছিল। তিনি লাঠির মাথা দিয়ে জমিনে আঘাত করেন। অতপর তিনি উপরের দিকে মাথা তোলেন এবং বলেন- তোমরা আল্লাহর আজাব থেকে আশ্রয় চাও। এ কথা তিনি ২/৩ বার বললেন, এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেন-

‘কোনো মুমিন বান্দার যখন দুনিয়া থেকে আখেরাতে পাড়ি জমানোর (মৃত্যুর) সময় উপস্থিত হয়; তখন আসমান থেকে সাদা চেহারা বিশিষ্ট ফেরেশতারা নিচে নেমে আসেন। তাদের চেহারা সূর্যের মতো আলোকজ্জ্বল হয়। তাদের সঙ্গে থাকে বেহেশতের কাফন ও সুগন্ধি। তাঁরা তার (মৃতব্যক্তির) চোখের সীমানায় এবং মৃত্যুর ফেরেশতা (মৃতব্যক্তির) মাথার কাছে বসেন। তিনি (মৃত্যুর ফেরেশতা) বলেন, ‘হে পবিত্র ও নেক আত্মা! তুমি আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে বেরিয়ে আস। তখন আত্মা বেরিয়ে আসে, যেভাবে কলসি থেকে পানি বেরিয়ে আসে। তখন ফেরেশতারা (মুমিন ব্যক্তির ওই) আত্মাকে ধরবেন; তাঁকে বেহেশতের আতরযুক্ত কাফনে রাখবেন; সেই কাফন থেকে পৃথিবীর সর্বোত্তম মেশকের সুঘ্রাণ বের হতে থাকবে। তারপর তারা তা (আত্মা/রূহ) নিয়ে ওপরে যাবেন। তারা যখন কোনো ফেরেশতা দলের কাছ দিয়ে অতিক্রম করবেন, তখন ফেরেশতারা বলবে, এটি একটি উত্তম আত্মা।

বহনকারী ফেরেশতারা বলবেন, ‘এটি অমুকের আত্মা। অর্থাৎ তারা দুনিয়াতে তার নামের পরিচয় দেবেন। তারা দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত দরজা খুলে দিতে বলবেন। তখন দরজা খুলে দেয়া হবে। তারপর ঘনিষ্ঠ ফেরেশতারা পরবর্তী আসমান পর্যন্ত তাকে বিদায় জানাবেন। সপ্তম আসমান পর্যন্ত এভাবে চলতে থাকবে।

অতপর আল্লাহ তাআলা আদেশ দেবেন- ‘আমার বান্দার দফতর ইল্লিয়্যিনে লিখে রাখে;’ আর ইল্লিয়্যিন হচ্ছে সপ্তম আসমানে মুমিন বান্দার আত্মা সংরক্ষণের স্থান।

কবরের জিজ্ঞাসাবাদ

মুমিন বান্দার আত্মাকে পুনরায় জমিনে (কবরে) তার দেহে ফেরত পাঠানো হবে। এরপর দু’জন ফেরেশতা এসে তাঁকে (মৃতব্যক্তিকে) কবরে বসাবেন, তাঁকে জিজ্ঞাসা করবেন-

তোমার রব কে?

আত্মা বলবে- আমার রব আল্লাহ।

তারপর জিজ্ঞাসা করবেন, তোমার দ্বীন কি?

আত্মা বলবে- আমার দ্বীন ইসলাম।

ফেরেশতারা জিজ্ঞাসা করবেন, তোমার কাছে প্রেরিত লোকটি কে?

আত্মা বলবে- তিনি আল্লাহর রাসুল।

তারপর জিজ্ঞাসা করবেন, তুমি কিভাবে জানো?

আত্মা বলবে- আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি, এর ওপর ঈমান এনেছি এবং তা বিশ্বাস করেছি।

এরপর আকাশ থেকে একজন আহ্বানকারী আওয়াজ দিয়ে বলবেন-

‘আমার বান্দা ঠিক বলেছে’ তার জন্য বেহেশতের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং বেহেশতের একটি দরজা তাতে খুলে দাও। তখন সে বেহেশতের সুঘ্রাণ ও প্রশান্তি লাভ করবে। তার কবরকে নিজ চোখের দৃষ্টি সীমানা পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে।

রাবি (হজরত বারা ইবনে আজেব রাদিয়াল্লাহু আনহু)  বলেন, ‘তার কাছে সুন্দর চেহারা বিশিষ্ট একজন লোক আসবে’ যার পরনে সুন্দর কাপড় ও শরীরে সুঘ্রাণ থাকবে। সে বলবে, ‘তুমি সুখের সুসংবাদ গ্রহণ কর। এটি সেই দিন, যে দিন সম্পর্কে তোমাকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল।'

আত্মা তাঁকে প্রশ্ন করবে- তুমি কে? সুন্দর চেহারা নিয়ে কে আমাকে সুসংবাদ দিচ্ছ। লোকটি উত্তর দেবে- আমি তোমার নেক আমল বা ভাল কাজ।

 তারপর (মুমিন ব্যক্তির) আত্মা ফরিয়াদ করতে থাকবে-

‘হে আমার রব! কেয়ামত কায়েম কর; কেয়ামত ঘটাও; যেন আমি আমার পরিবার-পরিজন ও মাল-সম্পদের কাছে যেতে পারি।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মুমিন বান্দা হওয়ার তাওফিক দান করুন। বেশি বেশি মৃত্যুর কথা স্মরণ করার তাওফিক দান করুন। পরকালের প্রথম মঞ্জিল কবর থেকে শুরু করে বিচার দিবস পর্যন্ত উত্তম প্রতিদান লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।


আরও খবর



কোরআন সংরক্ষক হজরত জায়েদ (রা.)

প্রকাশিত:Thursday ২১ July ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ১৬ August ২০২২ | ৭০জন দেখেছেন
Image

হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত। কোরআন সংরক্ষক। তিনি ছিলেন কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ ধারক, বাহক ও প্রচারক। মদিনার বনু নাজ্জার গোত্রের এ আনসারী যুবক সাহাবি মাত্র ২২ বছর বয়স থেকে কোরআন সংরক্ষণের এ কাজে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন। কোরআন সংরক্ষণে কেমন ছিল তার অবদান?

ঐশী আল-কোরআন। যা দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে বিশ্বমানবতার কল্যাণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর নাজিল হয়েছিল। এ কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ ধারক, বাহক ও প্রচারক ছিলেন সাহাবায়ে কেরাম। কোরআনের জন্য যারা সবচেয়ে বেশি নিবেদিত ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু। কোরআন সংরক্ষণের যার ভূমিকা ছিল অনন্য।

হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুর ভূমিকা ও সাহাবায়ে কেরামের ঐকান্তি প্রচেষ্টা ও মহান আল্লাহর রহমতেই আজো কোরআন অবিকৃত অবস্থায় দুনিয়ায় বিদ্যমান। যা মুসলিম উম্মাহর কাছে এক অনন্য আমানত। কোরআন সংরক্ষণের অগ্রসেনানী হজরত জায়েদ ইবনে সাবিতের অবদান ও সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো-

মুসলিম উম্মাহর কাছে যে অবিকৃত ও অখণ্ড কোরআন রয়েছে, এ কোরআন প্রাপ্তিতে হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুর অবদান সবচেয়ে বেশি। মাত্র ২২ বছর বয়সের জায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু পবিত্র কোরআনের আয়াত, সুরাগুলো সংরক্ষণ ও সংগ্রহে নিরলস কাজ করেছিলেন।

জন্মা ও ইসলাম গ্রহণ

তিনি মদিনার বনু নাজ্জার গোত্রে জন্ম গ্রহণ করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের মদিনায় হিজরতের পর ১১ বছর বয়সে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুও ইসলাম গ্রহণ করেন।

জ্ঞান চর্চার আগ্রহ ও অহি লেখক

ছোটবেলা থেকেই হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত জ্ঞানচর্চায় বেশ মনোযোগি ছিলেন। বিশেষ করে ইসলাম গ্রহণের পর কোরআন মুখস্ত করাসহ ইলম অর্জনে তার আগ্রহ ছিল অনেক বেশি। কোরআন মুখস্তের প্রচেষ্টা ও ইলম অর্জনের আগ্রহ দেখে বিশ্বনবি তাঁকে কাতেবে অহি তথা অহি লেখকের  মর্যাদা দেন। সে সময় থেকে আজও তিনি বিশ্বব্যাপী কাতেবে অহি হিসেবে পরিচিত।

ইহুদি ধর্মগ্রন্থ ও সুরিয়ানি ভাষা শেখা

বিশ্বনবি তার ক্ষুরধার মেধাশক্তি দেখেই তাকে ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ শেখার নির্দেশ দেন। মাত্র ১৫ দিনে তিনি ইহুদিদের পুরো ধর্মগ্রন্থ আত্মস্থ করে নেন। এরপর তিনি হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সুরিয়ানি ভাষা শেখার নির্দেশ দেন। ইলম শেখার এ আগ্রহ, প্রখর মেধাশক্তি ও জ্ঞানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে শায়খুল কুররা এবং মুফতিউল মাদিনা বলা হতো।

কোরআন মুখস্ত

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে তিনি পুরো কোরআন মুখস্ত করেন এবং নবিজীর ইন্তেকালের বছর তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুইবার পুরো কোরআন তেলাওয়াত করে শোনান। তখনও কোরআন লিপিবদ্ধ আকারে ছিল না। তখন সাহাবায়ে কেরামের সিনায় তথা হাফেজে কোরআনের বুকে পবিত্র কোরআন সংরক্ষিত ছিল। কোরআনের পাণ্ডুলিপিগুলো যা কিছু লেখা ছিল, তাও বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল।

কোরআন সংরক্ষণের দায়িত্বভার

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পর খোলাফায়ে রাশেদার যুগে বিভিন্ন যুদ্ধে হাফেজ সাহাবিদের শাহাদাতবরণ বিজ্ঞ সাহাবিদের চিন্তিত করে তোলে। অবশেষে হজরত ওমর ও হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং কোরআন সংরক্ষণের জন্য জোর তাগিদ দেন। হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পরামর্শে হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু কোরআন সংরক্ষণের গুরুদায়িত্ব হজরত জায়েদ ইবনে সাবিতের ওপর অর্পন করেন।

হজরত আবু বকরের নির্দেশ

খলিফা হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু হজরত জায়েদ ইবনে সাবিতকে লক্ষ্য করেন বলেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি একজন বুদ্ধিমান যুবক। তোমার ব্যাপারে আমরা কোনো মন্দ ধারণা পোষণ করি না। হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের এ আস্থা অটুট রেখে পবিত্র কোরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব যথাযথ পালন করেন।

কোরআন সংরক্ষণের গুরুদায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে হজরত জায়িদ ইবনে সাবিত বলেন, ‘আল্লাহর শপথ! যদি আমাকে কোনো পাহাড় স্থানান্তর করার দায়িত্ব দেওয়া হতো, তবে তা আমার কাছে কোরআন সংরক্ষণের চেয়ে অনেক সহজ হতো।

হজরত ওসমানের যুগে

পবিত্র কোরআন সংকলনের জন্য হজরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলা হয় জামেউল কোরআন। তিনি কোরআন বিশেষজ্ঞ ১২ সাহাবার সমন্বয়ে এক কমিটি গঠন করে পবিত্র কোরআন সংকলন চূড়ান্ত করেন। হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু সে বিশেষজ্ঞ কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন।

ইন্তেকাল

কোরআন সংরক্ষণের অনন্য ভূমিকা পালনকারী হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত ৪৫ হিজরিতে পবিত্র নগরী মদিনায় ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাআলা ডাকে সাড়া দিয়ে চলেগেছেন পরকালের সুন্দর ভুবনে।

আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। তাঁর নেক আমলের ফায়েজ ও বরকত মুসলিম উম্মাহকে দান করুন। মুসলিম উম্মাহকে বিশুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে নিজেদের ঈমান বাড়ানোসহ কোরআনের সমাজ বিনির্মাণের হিম্মত দান করুন। আমিন।


আরও খবর



রাবি কেন্দ্রীয় মন্দিরের সভাপতির বিরুদ্ধে ‘বর্ণবাদী আচরণের’ অভিযোগ

প্রকাশিত:Thursday ১১ August ২০২২ | হালনাগাদ:Thursday ১৮ August ২০২২ | ২১২জন দেখেছেন
Image

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় মন্দির সভাপতির বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ উঠেছে। ‘মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষার অজুহাত’ দেখিয়ে নিম্নবর্ণীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী রাখার অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ করেছে মতুয়া শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি মোহিত মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক পার্থ রায়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, মন্দির সভাপতি অধ্যাপক কমল কৃষ্ণ বিশ্বাসের কাছে ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু নিম্নবর্ণীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মন্দিরে রাখার বিষয়ে আবেদন জানায় মতুয়া শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদ। কিন্তু তাদের সঙ্গে অসদাচরণ ও ‘আমি মন্দির পবিত্র রাখতে চাই’ জানিয়ে আবেদনটি নাকচ করে দেন অধ্যাপক কমল। তবে অধ্যাপক কমল তাদের লিখিত আবেদন মঞ্জুর না করলেও বিনা আবেদনে বিশেষ একটি সংগঠনকে মৌখিক অনুমতি দেন। সেখানে তাদের অনুসারী ছাত্রদের থাকার ব্যবস্থা করেন যা অত্যন্ত বর্ণবাদী আচরণ বলে দাবি করা হয়।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, অধ্যাপক কমল কৃষ্ণ বিশ্বাস তাদের অনুমতি না দেওয়ায় পূর্ববর্তী বছরের ধারাবাহিকতায় অসংখ্য শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে তারা এবারের ভর্তি পরীক্ষায় বিপদে পড়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন জনের আর্থিক সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী এবং অভিভাবককে আবাসন ও আহারের ব্যবস্থা করতে হয় তাদের।

jagonews24

এমন বর্ণবাদী আচরণে ‘অধ্যাপক কমল সভাপতির যোগ্যতা হারিয়েছেন’ দাবি করে তার অপসারণ চেয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। তারা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি মন্দিরের সভাপতি হবেন এমন একজন অধ্যাপক যিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যকার সব শ্রেণিকে সমান চোখে দেখবেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক কমল কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ মিথ্যা এবং নোংরা মন-মানসিকতার প্রকাশ। মন্দির সবার জন্য। এখানে সবাই থাকতে পারবে। আমি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে এমন কিছু বলিনি যে তারা থাকতে পারবে না মন্দিরে।’

অভিযোগকারীদের মন্দিরে থাকার আবেদন নাকচের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এরকম কোনো লিখিত আবেদন আমি পাইনি। তবে মৌখিকভাবে ও ফোনে কথা বলেছে তাদের কয়েকজন। বিশ্ববিদ্যালয় মন্দির তো অনেক ছোট জায়গা। এখানে সবাইকে রাখাও কঠিন। এজন্য আমি প্রথমে তাদের অন্য কোথাও রাখার ব্যবস্থা করার জন্য বলেছি। কিন্তু আমি এটাও বলে দিয়েছি যে ব্যবস্থা না করতে পারলে আমরা রাখার ব্যবস্থা করবো। শুধু তারা যেন খাওয়া-দাওয়া বা মাছ-মাংস মন্দিরে না তোলে।’

মতুয়া শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদ রাবির কেন্দ্রীয় মন্দিরের সহযোগী সংগঠন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বিশেষভাবে নিম্নবর্ণীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করার জন্য ২০১৫ সালের ১৫ মার্চ প্রতিষ্ঠা করা হয় সংগঠনটি।


আরও খবর



ওমান যাওয়া হলো না স্বপনের

প্রকাশিত:Monday ১৫ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ২৬জন দেখেছেন
Image

রাজধানীর চকবাজারের দেবীদাসলেন এলাকায় প্লাস্টিক কারখানা ও গোডাউনে লাগা আগুনে অগ্নিদগ্ধ ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন স্বপন সরকার। ওমান যাওয়ার কথা ছিল তার। এজন্য দু’দিন পরেই তার ভিসার জন্য মেডিকেল চেকআপ করার কথা ছিল। এর মধ্যেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তার স্থান হলো রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল মর্গে। তার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে রাখা হয়েছে।

স্বপন সরকার সিলেটের হবিগঞ্জের বাসিন্দা। তিনি প্লাস্টিক কারখানা সংলগ্ন একটি হোটেলে কাজ করতেন।

সোমবার (১৫ আগস্ট) মিডফোর্ট হাসপাতালের মর্গের সামনে গিয়ে দেখা যায়, স্বপন সরকারের নাম ধরে বিলাপ করছেন করছেন তার দুই বড় ভাই সজল ও কাজল সরকার।

jagonews24

জানতে চাইলে তারা জাগো নিউজকে বলেন, স্বপন হোটেলে কাজ করতো। ওমান যাওয়ার ইচ্ছা ছিল তার। এখনো ভিসা হয়নি। কথা ছিল বাড়িতে গিয়ে মেডিকেল চেকআপ করবে সে। ব্যাগও গুছিয়ে রেখেছিল। কিন্তু ওর আর ওমান যাওয়া হলো না।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে চকবাজারের দেবীদাসলেন এলাকায় প্লাস্টিক কারখানা ও গোডাউনে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টার চেষ্টায় দুপুর ২টার পর নিয়ন্ত্রণে আনে। এর পর ওই ভবন থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিকেল সাড়ে ৫টার পর মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়। এসময় হাসপাতালের বাইরে স্বজদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। প্রত্যেকেই তাদের স্বজনের ছবি নিয়ে বারবার ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ছোটাছুটি করতে থাকেন।


আরও খবর