Logo
আজঃ শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪
শিরোনাম

আগামী সপ্তাহে সংসদীয় আসনগুলোর সীমানার খসড়া প্রকাশ: ইসি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | ৩৫১জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিদ্যমান সীমানাকে খসড়া হিসেবে প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই খসড়া প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম।

আজ মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

সচিব বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যে সীমানা ছিল তা নিয়ে খসড়া প্রকাশ করা হবে এবং বিজ্ঞপ্তিতে দাবি আপত্তির জন্য একটা সময় নির্ধারণ করা হবে। ওই সময়ের মধ্যে যে সকল দাবি আপত্তি উত্থাপিত হবে সেগুলো এবং ইতোমধ্যে অনেকেই নিজ উদ্যোগে যে সমস্ত আবেদন দিয়েছেন সে সমস্ত আবেদন নিয়ে শুনানি আন্তে বিধিবিধানের আলোকে আমাদের চূড়ান্ত বিভক্তি এলাকা ঘোষণা করা হবে।


সংসদীয় আসনে কাটাছেঁড়া হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি হবে মূলত প্রাপ্ত আবেদনের সংখ্যার ওপরে। কারণ আমরা ফয়সালাটা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করব আগেরটা। এর পরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে আবেদনগুলো আসবে সে আপত্তি এবং ইতিমধ্যে নিজ থেকে যে আবেদনগুলো পড়েছে, সেগুলো শুনানি আন্তে আমরা বলতে পারব, আসলে কয়টায় কী হয়েছে।’

খসড়া দ্রুতই প্রকাশ করা হবে জানিয়ে জাহাংগীর আলম বলেন, ‘আমরা আগামী সপ্তাহের মধ্যেই করে দেব। আগে তো মানুষকে জানাতে হবে। তারপর তাদের কোনো আপত্তি থাকলে তার ওপর শুনানি হবে। এরপর যে আইন আছে, প্রথম হচ্ছে ভৌগোলিক অখণ্ডতা, তারপর আঞ্চলিক অবিভাজ্যতা, তারপর প্রশাসনিক এলাকা চতুর্থত জনসংখ্যার ঘনত্ব। এ সবগুলোর বিবেচনায় নিয়ে যদি প্রয়োজন হয় সংশোধন হবে। না হলে হবে না।


আরও খবর



সড়ক দুর্ঘটনার বিভ্রান্তিকর পরিসংখ্যান নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে‘নিরাপদ সড়ক চাই’

প্রকাশিত:সোমবার ২৯ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১৩৪জন দেখেছেন

Image

কামাল হোসেন খানঃবাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার বিভ্রান্তিকর পরিসংখ্যান নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। সোমবার (২৯ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে  এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় 

সংবাদ সম্মেলনে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, দেশের যেসব সংগঠন বা সরকারি সংস্থা সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য প্রকাশ করছে তা ভিন্ন ভিন্ন হচ্ছে। এতে দেশের মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। আমরা বরাবরই বলে আসছি সরকার নিজ উদ্যোগে দুর্ঘটনার তথ্য প্রকাশ করুক। যদিও বিআরটিএ গত বছর থেকে এই তথ্য প্রকাশ করছে কিন্তু এর মধ্যে হাসপাতালের কোনো তথ্য নেই।

তিনি বলেন, পুলিশ সড়ক দুর্ঘটনার যে তথ্য প্রকাশ করে তাতে শুধু থানায় মামলার ঘটনা তুলে ধরা হয়। যদিও সব দুর্ঘটনায় মামলা হয় না। তাহলে আমরা এই তথ্য বিশ্বাস করবো কীভাবে। যেমন আমার স্ত্রী দুর্ঘটনায় মারা গেলে আমি কোনো মামলা করিনি।

তিনি বলেন, আমি আমার সংগঠন থেকে আর এ তথ্য প্রকাশ করবো না। আমাদের সেল চালু থাকবে নিজস্ব গবেষণার জন্য। তবে সরকারের প্রতি আহ্বান থাকবে বেসরকারি যে সমস্ত এক্সপার্ট আছে তাদের এই উদ্যোগের সঙ্গে সামিল করে একটা শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন করার। এক্ষেত্রে আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, যেহেতু সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরার যে ধারা আমরা শুরু করেছি সরকার যদি আমাদের সাপোর্ট এবং আর্থিক বরাদ্দ দেয় তাহলে আমরাও সরকারের সাথে এ কাজটি সঠিকভাবে করতে পারবো এই বিশ্বাস আমাদের আছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বলতে চাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সড়ক দুর্ঘটনা বা রোডক্র্যাশকে প্রতিরোধযোগ্য একটি অসংক্রামক রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংবিধানের ১৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও সুরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এছাড়াও অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৩.৬ অর্জনে ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা বা রোডক্র্যাশে প্রাণহানির সংখ্যা ২৫ শতাংশ কমিয়ে আনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি বৈশ্বিক পর্যায়েও ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘভুক্ত সদস্য দেশগুলো বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনা বা রোডক্র্যাশে নিহত ও আহতের সংখ্যা শতকরা ৫০ ভাগ কমিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য গ্লোবাল প্ল্যান ফর সেকেন্ড ডিকেড অব অ্যাকশন ফর রোড সেফটি ২০২১-২০৩০ এর আওতায় ৫টি স্তম্ভের কথা বলা হয়েছে।

সেগুলো হলো- বহুমুখী যানবাহন ও ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা, নিরাপদ যানবাহন, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো, নিরাপদ সড়ক ব্যবহার, রোডক্র্যাশ পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়াও সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য ৫টি আচরণগত ঝুঁকি যেমন, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ না করা, সিট বেল্ট ব্যবহার না করা, মানসম্মত হেলমেট পরিধান না করা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং শিশুবান্ধব বিশেষায়িত আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এসব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ২০১০ থেকে ২০২১ সালে বেলারুশ, ব্রুনাই দারুসসালাম, ডেনমার্ক, জাপান, লিথুয়ানিয়া, নরওয়ে, রাশিয়ান ফেডারেশন, ত্রিনিদাদ, টোবাগো, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভেনিজুয়েলা রোডক্র্যাশে মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সরকার যদি নিজ উদ্যোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বিআরটিএর মাধ্যমে সমন্বয় করে একটু শক্তিশালী মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে তা প্রকাশ করে তাহলে জনগণের মধ্যে আর বিভ্রান্তি থাকবে না।


আরও খবর



জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা: বাইডেন প্রতিশোধের হুংকার দিলেন

প্রকাশিত:সোমবার ২৯ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১৫১জন দেখেছেন

Image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:ড্রোন হামলায় তিন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছে, জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, আমেরিকার হৃদয় আজ দুঃখভারাক্রান্ত।

জো বাইডেন বলেন, আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রতিশ্রুতি বজায় রাখব। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দমতো উপায়ে হামলার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতা করতে হবে।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে সিরিয়ার সীমান্তবর্তী জর্ডানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে জানায় মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সিইএনটিসিওএম)। এ ঘটনায় শেষ পর্যন্ত ৩৪ জনেরও বেশি সেনা সদস্য আহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ হামলায় ইরান সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠনের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।

তিনি বলেছেন, আমরা এখন এ হামলার তথ্য সংগ্রহ করছি। আমরা এটা জানি যে, সিরিয়া ও ইরাকে সক্রিয় ইরান সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠনগুলো এ হামলা চালিয়েছে।

এর আগে, সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) পর্যন্ত, ইরাক এবং সিরিয়ায় মার্কিন ও জোট বাহিনীর ওপর ১৫৮টিরও বেশি হামলা হয়েছে, যদিও কর্মকর্তারা ড্রোন, রকেট এবং ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমাগত হামলাকে ব্যর্থ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।


আরও খবর

সোনার খনি ধসে ভেনেজুয়েলায় নিহত ২৩

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




ধানমন্ডি লেক সপ্তাহে একদিন বন্ধ থাকবে: তাপস

প্রকাশিত:বুধবার ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৮০জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:ধানমন্ডি লেকে ভিক্ষুক ও হকার প্রবেশ করলে কারাদণ্ড দেওয়া হবে, বলেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস , ।

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ধানমন্ডি লেকে পরিচালিত বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মেয়র তাপস বলেন, দূষণরোধ এবং পরিচ্ছন্ন রাখার স্বার্থে ধানমন্ডি লেক প্রতি বুধবার সাপ্তাহিক বন্ধ ঘোষণা করা হলো। একদিন ধানমন্ডি লেক ঘিরে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

তিনি বলেন, এ নিয়ম না মানলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানার পাশাপাশি কারাদণ্ডের ব্যবস্থা করা হবে।

মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিগগিরই এ লেক উদ্বোধন করবেন। ধানমন্ডি লেককে আরও সুন্দর এবং আকর্ষণীয় স্পটে পরিবর্তনের লক্ষ্যে নজরুল সরোবর স্থাপন করা হবে।


আরও খবর



তিন পর্বে হলে আরও সুষ্ঠু হবে নির্বাচন: সিইসি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৮৯জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:নির্বাচনকে যাতে আরও স্বচ্ছ, উন্নত করা যায় সেটা নিয়ে আমাদের কাজ করা প্রয়োজন, বলেছেন,প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল । তিন মাস ধরে নির্বাচন হয় ভারতে। আমাদের এখানে যদি তিনটা পর্বে সেটা করা যায় তাহলে আরও সহজ ও সুষ্ঠু হবে।

সিইসি বলেন, একই জেলার মধ্যে হওয়ার কারণে প্রশাসনের জন্য এটা সহজ হয়ে যাবে। ভোটার আসছে কি না, সহিংসতার সম্ভাবনা আছে কি-না, এমন বিষয় পর্যালোচনা করে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। উপজেলায় এটা প্রয়োগ হচ্ছে। এটার বেশ কিছু ইতিবাচক দিক আমরা দেখতে পাচ্ছি।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে আরএফইডির নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ ও বিদায়ী কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকার বিষয়ে সিইসি বলেন, দলীয় প্রতীক না থাকলে এটারও ভালো দিক আছে। এটা তো জাতির জন্য নয়, এলাকার জন্য। স্থানীয় সরকার ছোট একটা এলাকায় পরিচালিত হয়, সীমিত ক্ষমতা নিয়ে। পাকিস্তানেও বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে একটা অংশগ্রহণমূল নির্বাচন হয়েছে। দলীয় প্রতীক হোক কিংবা না হোক আমরা চাই সুন্দর নির্বাচন।

এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য ফোনে কথা বলেছি, ডিও লেটার দিয়ে আহ্বান জানিয়েছি। তারা আহ্বানে সাড়া দেয়নি। আমরা নির্দ্বিধায় বলেছি, তারা যদি নির্বাচনে অংশ নিতেন তাহলে সেটি অনেক বেশি অংগ্রহণমূলক হতো, ভোটার উপস্থিতিও বেশি হতো। তিনি বলেন,নির্বাচনটা সার্বজনীন হোক। বড় বড় দল অংশ না নিলে নির্বাচন অবৈধ হবে না। তবে নির্বাচনের ন্যায্যতা, গ্রহণযোগ্যতা খর্ব হবে। আমরা যদি সঠিক সমন্বয় ঘটাতে পারি নির্বাচন আরও সুন্দর হবে।

তিনি বলেন গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে , অনেক সময় এটা আদায় করে নিতে হয়। স্বাধীনতা সব সময় থাকবে না। তবে স্বাধীনভাবে কাজ করলেও সব সময় চাপ আসবে তা নয়। গণমাধ্যমের ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে। উন্নত বিশ্বে শাসকদের ঠিক জায়গায় রাখতে গণমাধ্যমে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। গঠনমূলক সামালোচনা করার করার কথাও বলেন।

তিনি বলেন, ক্ষমতা নয় দায়িত্বই আমাদের গ্রহণ করতে হয়। ক্ষমতা শব্দটিকে যদি আমরা পরিহার করতে পারি তাহলে দেশ ও সমাজ অনেক বেশি এগিয়ে যেতে পারে। গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে লম্বা বক্তৃতা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অনেক সময় রাষ্ট্রের স্তম্ভগুলো কাজ করে না, তখন সবগুলো কাজ গণমাধ্যম একাই করে সমাজকে বাঁচিয়ে রাখে।


আরও খবর



অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করুন: বিশ্ব নেতাদের প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:শনিবার ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৭৩জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, অর্থহীন অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করে জলবায়ু তহবিলে অর্থ বাড়ানোর জন্য।

শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জার্মানিতে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন ২০২৪ এ ‘ফ্রম পকেট টু প্ল্যানেট: স্কেলিং আপ ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় এ প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি।

জলবায়ু তহবিল নিয়ে ছয় প্রস্তাব পেশ করে বিশ্ব নেতাদের প্রতি শেখ হাসিনা বলেন, অর্থহীন অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে এবং এর পরিবর্তে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহের জন্য সম্পদের সংস্থান করা দরকার।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে যে, মানবতার অস্তিত্ব যখন হুমকির মুখে পড়বে, তখন সংকীর্ণ স্বার্থ রক্ষার পথ অনুসরণ করলে তা কোনও সুফল বয়ে আনবে না।

ছয়টি পরামর্শের প্রথমটি উপস্থাপন করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সঠিক পথে রাখতে জলবায়ু অর্থায়নের বরাদ্দ ছাড় করার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, উন্নত দেশগুলোকে পরিকল্পনার ভিত্তিতে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দুই বছরে প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে হবে।

তিনি বলেন, এই বছরের শেষ নাগাদ, আমাদের সবাইকে অবশ্যই বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে বিশেষ করে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওপরে ২০২৫-পরবর্তী একটি নতুন জলবায়ু অর্থায়ন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে একমত হতে হবে।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বকে যুদ্ধ ও সংঘাত, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নির্মম হত্যাকাণ্ড থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে। যা গাজা ও অন্যত্র বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করছে।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সংঘাতের অনুভূতির বোধ থেকেও অনেক দূরে অনুভূত হয়।

তৃতীয় পরামর্শে, তিনি বলেন, জলাযায়ু প্রভাব প্রশমন ও অভিযোজনের জন্য অর্থায়নের তীব্র ভারসাম্যহীনতা দূর করার জন্য অভিযোজন অর্থায়নের বর্তমান পর্যায় অন্তত দ্বিগুণ করা প্রয়োজন।

এ লক্ষ্যে, অভিযোজনে সহায়তার জন্য বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন ইউরো প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে ধন্যবাদ জানান।

চতুর্থ পরামর্শে তিনি বলেন, বিদ্যমান আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থ প্রাপ্তি সুগম করার জন্য দীর্ঘকালের অমীমাংসিত সমস্যাটি তাদের সক্ষমতায় বিনিয়োগ করার সুযোগসহ সমাধান করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড থেকে অর্থায়ন পাওয়ার জন্য আমাদের শুধুমাত্র দুটি যোগ্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং আরও দুটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পঞ্চম পরামর্শে শেখ হাসিনা বলেন, বৈশ্বিক অর্থায়নের ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের ক্ষেত্রে বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ঋণের বোঝা দূর করতে তাদের জন্য অনুদান ও সুবিধাজনক ঋণ লাভের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থপূর্ণ ফলাফল দেখাতে হবে।

সর্বশেষ ও ষষ্ঠ পরামর্শে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু কর্মসূচি জন্য বেসরকারি পুঁজি প্রবাহের ক্ষেত্রে সরকারগুলোকে সঠিক পরিকল্পনা, নীতি ও ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রকল্পগুলোর জন্য বেসরকারি পুঁজি আকৃষ্ট করার জন্য উদ্ভাবনী, মিশ্র অর্থায়নের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, এটি সুস্পষ্ট যে, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ছাড়া জলবায়ু অর্থায়নের বিপুল পরিমাণ ঘাটতির কার্যকর সমাধান করা যাবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, সবাই জলবায়ু প্রভাব প্রশমন ও অভিযোজনে বিনিয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের বর্তমান মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে।

তিনি বলেন, দুঃখের বিষয়, প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়ন এখনও গুরুতরভাবে অপর্যাপ্ত। ‘জলবায়ু অর্থায়ন’ এবং এর অ্যাকাউন্টিং পদ্ধতির বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত সংজ্ঞার অনুপস্থিতির কারণে এটি আরও জটিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে কপ-১৫ চলাকালে শেষ মুহূর্তের সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যে নেতাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন এবং বুঝতে পেরেছিলেন যে, আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা বেশ কঠিন হবে। দেশে ফিরে যাওয়ার পর, তিনি স্থানীয়ভাবে অভিযোজন প্রকল্প গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের উদ্যোগ নেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এখন স্থানীয়ভাবে পরিচালিত জলবায়ু অভিযোজনের একটি পরীক্ষাগার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৪৮ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে প্রায় ৮০০ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, সবগুলোই নিজস্ব সম্পদ থেকে। তবে, আমাদের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রতি বছর যে ৭-৮ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন তার তুলনায় এটি এখনও অপর্যাপ্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয়গুলোকে পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনায় রাখার জন্য, জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) অনুসারে প্রভাব প্রশমনের জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন প্রয়োজন বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অভিযোজনের জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত বার্ষিক ২১৫-৩৮৭ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এটা সুস্পষ্ট যে, অর্থায়নের বিপুল ব্যবধান বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

শেখ হাসিনা বলেন, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড চালু করার মাধ্যমে দুবাইতে কপ-২৮ একটি ইতিবাচক যাত্রা শুরু করেছে। আমরা সন্তুষ্ট যে, তহবিলের জন্য ৭৯২ মিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আমরা আশা করি যে, তহবিলে অতিরিক্ত প্রতিশ্রুত অর্থ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, অর্থায়নের সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে এখন লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডের গভর্নিং বোর্ড গঠিত হয়েছে।

তিনি প্যারিস চুক্তির নীতিমালা দ্বারা তহবিল পরিচালিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ওডিএ এবং অন্যান্য ধরনের জলবায়ু অর্থায়নের বাইরে তহবিল অবশ্যই নতুন ও অতিরিক্ত অর্থ পাবে। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যে, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থান করা হয় না।

তিনি বলেন, তহবিলের পরবর্তী কাজ হলো কার্যকর প্রকল্পের জন্য অর্থ ছাড় শুরু করা। তহবিল তাদের কাছে পৌঁছানো উচিত যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থ ছাড় প্রক্রিয়া সহজ ও নমনীয় করা উচিত। আমরা আশা করি যে, তহবিলের পরিচালনা পর্ষদ এলডিসি এবং সিডস প্রতিনিধিদের মতামতের বিষয়ে যথাযথ মনোযোগ দেবে।

তিনি আরও বলেন, আমি অবশ্যই বাংলাদেশকে লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডের সহায়তার প্রথম প্রাপক হিসেবে দেখতে চাই।

বাংলাদেশ সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণে আমাদের অবদান নগণ্য (বৈশ্বিক নির্গমনের ০.৪৭%-এর কম) হলেও তার দেশ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে সপ্তম স্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, এটা অনুমান করা হয় যে, এখন থেকে ২০৫০ পর্যন্ত, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের বার্ষিক জিডিপি ক্ষতি হবে ২%, এবং এই হারে ২১০০ সালের মধ্যে, ক্ষতি ৯% পর্যন্ত হবে। আরও অনুমান করা হয়েছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের প্রায় ১৩.৩ মিলিয়ন মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন বাংলাদেশ জলবায়ু অভিযোজন এবং সহিষ্ণুতার জন্য বার্ষিক বাজেটের প্রায় ৪.৬ শতাংশ এবং জিডিপির ০.৭৪ শতাংশ ব্যয় হয়, যার ৭৫ শতাংশ আসে অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে।

বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড ২০০৯ সালে নিজস্ব সম্পদ থেকে গঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তহবিল এ পর্যন্ত প্রায় ৪৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে ৮০০টিরও বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।

সূত্র: বাসস


আরও খবর