Logo
আজঃ বুধবার ১৯ জুন ২০২৪
শিরোনাম

৯ এপ্রিল থেকে যেসব ব্যাংকে মিলবে নতুন নোট

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ মার্চ ২০২৩ | হালনাগাদ:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | ৩৯০জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল ‌ফিতর উপলক্ষে আগামী ৯ এপ্রিল থেকে নতুন নোট বাজারে ছাড়ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।  আগামী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত (সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) নতুন নোট বি‌নিময় করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিকেশন্স থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া ঢাকা অঞ্চলের বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের ৪০টি শাখা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন অফিসের মাধ্যমে ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকা মূল্যমানের নতুন নোট বিশেষ ব্যবস্থায় বিনিময় করা হবে। একই ব্যক্তি একাধিকবার নতুন নোট গ্রহণ করতে পারবেন না। তবে নোট উত্তোলনকালে কেউ ইচ্ছা করলে কাউন্টার থেকে মূল্যমান নির্বিশেষে যেকোনো পরিমাণ ধাতব মুদ্রা (কয়েন) গ্রহণ করতে পারবেন।

এনসিসি ব্যাংক যাত্রাবাড়ী শাখা, ঢাকা। মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লি., বাবু বাজার শাখা, ঢাকা। পূবালী ব্যাংক লি., সদরঘাট শাখা, ঢাকা। জনতা ব্যাংক লি., আব্দুল গণি রোড কর্পোরেট শাখা, ঢাকা। অগ্রণী ব্যাংক লি., জাতীয় প্রেস ক্লাব কর্পোরেট শাখা, ঢাকা। রূপালী ব্যাংক লি., স্থানীয় কার্যালয়, ঢাকা। এক্সিম ব্যাংক লি., মতিঝিল শাখা, ঢাকা। সোনালী ব্যাংক লি., রমনা কর্পোরেট শাখা, ঢাকা। ওয়ান ব্যাংক লি., বাসাবো শাখা, ঢাকা। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লি., নন্দীপাড়া শাখা, ঢাকা।

এনসিসি ব্যাংক লি., মালিবাগ শাখা, ঢাকা। অগ্রণী ব্যাংক লি., রামপুরা টিভি শাখা, ঢাকা। এবি ব্যাংক লি., প্রগতি সরণী শাখা, ঢাকা। প্রিমিয়ার ব্যাংক লি., বসুন্ধরা শাখা, ঢাকা। প্রিমিয়ার ব্যাংক লি., বনানী শাখা, ঢাকা। ব্যাংক এশিয়া লি., বনানী-১১ শাখা, ঢাকা। আইএফআইসি ব্যাংক লি., গুলশান শাখা, ঢাকা। ন্যাশনাল ব্যাংক লি., মহাখালী শাখা, ঢাকা। সাউথইস্ট ব্যাংক লি., কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লি., বসুন্ধরা সিটি (পান্থপথ) শাখা, ঢাকা। প্রাইম ব্যাংক লি., এ্যালিফেন্ট রোড শাখা, ঢাকা। ডাচ-বাংলা ব্যাংক লি., নিউমার্কেট শাখা, ঢাকা।

ব্যাংক এশিয়া লি., ধানমন্ডি শাখা, ঢাকা। সাউথইস্ট ব্যাংক লি., মোহাম্মদপুর শাখা, ঢাকা। ব্র্যাক ব্যাংক লি., শ্যামলী শাখা, ঢাকা। সোনালী ব্যাংক লি., জাতীয় সংসদ ভবন শাখা, ঢাকা। ডাচ-বাংলা ব্যাংক লি., মিরপুর শাখা, ঢাকা। এক্সিম ব্যাংক লি., মিরপুর শাখা, ঢাকা। দি সিটি ব্যাংক লি., বেগম রোকেয়া সরণী শাখা, ঢাকা। জনতা ব্যাংক লি., রজনীগন্ধা, ঢাকা (সাবেক কচুক্ষেত কর্পোরেট শাখা)। ডাচ-বাংলা ব্যাংক লি., এসএমই অ্যান্ড এগ্রিকালচার শাখা, দক্ষিণখান, ঢাকা।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লি., গাউসুল আযম এভিনিউ শাখা, ঢাকা। রূপালী ব্যাংক লি., উত্তরা মডেল টাউন কর্পো: শাখা, ঢাকা। সোনালী ব্যাংক লি., কোর্ট বিল্ডিং শাখা, গাজীপুর। মার্কেন্টাইল ব্যাংক লি., নারায়ণগঞ্জ শাখা, নারায়ণগঞ্জ। এক্সিম ব্যাংক লি., শিমরাইল শাখা, নারায়ণগঞ্জ। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লি., কাচপুর শাখা, নারায়ণগঞ্জ। প্রিমিয়ার ব্যাংক লি., নারায়ণগঞ্জ শাখা, নারায়ণগঞ্জ। মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লি., সাভার শাখা, সাভার ও ট্রাস্ট ব্যাংক লি., কেরানীগঞ্জ শাখা, কেরানীগঞ্জ।


আরও খবর



পুঠিয়ায় জাল ভোট দেয়ার চেষ্টাকালে ৪ কিশোর আটক

প্রকাশিত:বুধবার ২২ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | ১৪২জন দেখেছেন

Image
পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি:রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা নির্বাচনে ১৮ নং জামিরা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টাকালে চারজন কিশোরকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার আনুমানিক দুপুর দুইটার দিকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। 

গ্রেফতারকৃতরা সকলেই স্কুল পড়ুয়া ছাত্র বলে জানা গেছে। আটকদের মধ্যে নবম শ্রেণীর ছাত্র সাব্বির, দশম শ্রেণীর ছাত্র অনিক, সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র আবু বকর সিদ্দিক এবং সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে সীমান্ত বলে জানা গেছে।

আটককৃত চারজনের সাথে কথা বলে জানতে পারে তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক, তবে তারা কার পক্ষে ভোট কেন্দ্রে জাল ভোট দিতে এসেছিলেন তা শিকার করেননি। 

জামিরা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের পিজাইডিং কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, তারা কেন্দ্রের মধ্যে প্রবেশের চেষ্টা করে এমন সময় তাদেরকে অপ্রাপ্তবয়স্ক মনে করে সন্দেহ হলে একটি কক্ষে আটক করে রাখি।

আরও খবর



মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম মিরপুর শাখার কমিটির পরিচিতি

প্রকাশিত:রবিবার ০২ জুন 2০২4 | হালনাগাদ:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | ১০৫জন দেখেছেন

Image

হাবিব কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলা শাখার মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষনা হয় গত সপ্তাহে এবং আজ ১ জুন ২০২৪ইং শনিবার বিকেলে কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয় মিরপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম মিরপুর শাখার সভাপতি আবু হুরায়রা স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কুষ্টিয়ার জেলা শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ শুভীন আক্তার। মিরপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলামের পরিচালনায় এসময়ে সহ-সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, রুবেল হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পারভীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাফরোজা আক্তার টুনি, অর্থ-সম্পাদক রনি ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মমতাজ বেগম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুমন রেজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



পরীমণির পাশে দাঁড়ালেন ডিপজল

প্রকাশিত:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | ১১৪জন দেখেছেন

Image

বিনোদন ডেস্ক:দুই বছর পর ফের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) কুরবানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত ও জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমণি। তবে এবার কুরবানির সঙ্গে একটি শর্তজুড়ে দিয়েছেন তিনি। বিএফডিসিতে আনন্দময় পরিবেশের নিশ্চয়তা পেলে তবেই সেখানে কুরবানি দেবেন বলে জানিয়েছেন এ নায়িকা।

এ অভিনেত্রী বলেন, আমি এবার কুরবানি দিতে চাই। এ জন্য বিএফডিসির কেউ যদি সেখানে আনন্দময় পরিবেশে সবাইকে নিয়ে কুরবানির নিশ্চয়তা দিতে পারে, তবেই সেখানে কুরবানি দেব।

অভিনেত্রীর মন্তব্য দৃষ্টিগোচর হয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদ্য নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন ডিপজলের।

এ ব্যাপারে তিনি জানান- পরীমণিকে বিএফডিসিতে কুরবানি দেওয়ার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। আনন্দময় পরিবেশ থাকবে বিএফডিসিতে। আমরা সবাই একসঙ্গে ঈদ ও কুরবানির আনন্দ ভাগাভাগি করব। বিএফডিসিতে কুরবানি দেওয়ার জন্য কেন বাধা দেওয়া হবে? আগে বাধা দেওয়ার ব্যাপারে জানা নেই আমার। আমরা একসঙ্গে কুরবানি দেব, সবাই আনন্দ-ভাগাভাগি করব। কুরবানি শেষ হলে ময়লা-আবর্জনা ধুয়ে পরিস্কার করা হবে।

অভিনেতা ডিপজল বলেন, পরীমণিকে আমরা সব ধরনের সহায়তা করব। তার পাশে রয়েছি আমরা। সুন্দর পরিবেশের নিশ্চয়তা দিচ্ছি তাকে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। বিএফডিসিতে এবার উৎসবমুখর পরিবেশে কুরবানি দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে বিএফডিসিতে প্রথমবারের মতো কুরবানি দেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। পরবর্তী পাঁচ বছর সেই ধারাবাহিকতায় বজায় রেখে কুরবানি দিয়েছেন। সবশেষ ২০২১ সালে ৬টি গরু কুরবানি দেন তিনি। ওই বছর বিএফডিসির ভেতরে কুরবানি দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে বাইরে কুরবানি দিয়েছিলেন এ অভিনেত্রী।

পরীমণি বর্তমানে ‘রঙিলা কিতাব’ নামে একটি ওয়েব সিরিজের কাজ করছেন। কিঙ্কর আহসানের ‘রঙিলা কিতাব’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিতব্য সাত পর্বের সিরিজটি পরিচালনা করছেন অনম বিশ্বাস।


আরও খবর



দেশের ‘কুইন আইল্যান্ড’ ভোলার ঐতিহ্য মহিষের দই

প্রকাশিত:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | ৮৩জন দেখেছেন

Image

শরীফ হোসাইন, ভোলা বিশেষ প্রতিনিধি:দেশের বৃহত্তম দ্বীপজেলা ভোলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রাচুর্যের কারণে এই জেলাকে ডাকা হয় ‘কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ’ নামে। জেলার পূর্ব দিকে মেঘনা নদী, পশ্চিমে তেঁতুলিয়া, উত্তরে ইলিশা আর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। জলবেষ্টিত জেলা ভোলার প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী খাবার মহিষের দই। স্থানীয়ভাবে এটি ‘বৈষা দই’ নামে পরিচিত। উৎসব-পার্বণে এর চাহিদা অনেক বেশি। দই তৈরিতে দুধ আসে জেলার বিভিন্ন চরের মহিষের বাথান থেকে। এ উত্তাল জলরাশির মধ্যে জেগে ওঠা চরে সবুজ ঘাসের বুকে বিচরণ করে বেড়ায় মহিষ। সরকারি হিসাবে এর সংখ্যা এক লাখ ২৪ হাজার। তবে বেসরকারি হিসাব মতে তা দুই লাখের কাছাকাছি।

ভোলা জেলার ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১২২০ সালের দিকে ভোলায় প্রথম চর জাগতে শুরু করে। প্রায় ১০০ বছর পর, ১৩০০ সালের দিকে এখানে চাষাবাদ শুরু হয়। ১৩৩৫ সাল নাগাদ দক্ষিণ শাহবাজপুরে (ভোলার আদি নাম) বসতি স্থাপন শুরু হয়।

শাহবাজপুর ছাড়াও আশপাশের নদীতে জেগে ওঠে নতুন নতুন অসংখ্য চর। তখন থেকে শুরু হয় মহিষ লালন-পালন। সেখান থেকেই মহিষের দুধের কাঁচা টক দধির প্রচলন। তা ধীরে ধীরে নাম যশে বাড়তে থাকে এর চাহিদা। বর্তমানে সারাবছরই কাঁচা বৈষা দইয়ের চাহিদা থাকে। এখানকার অতিথি আপ্যায়নের অন্যতম উপাদান এটি। এ টক দধি গুড়, মিষ্টি অথবা চিনি দিয়ে খাওয়া যায়। এ ছাড়াও এ দুধের ছানার রসগোল্লা, রসমালাইয়ের স্বাদও অতুলনীয়। এ টক দধি সব সামাজিক, পারিবারিক ও ঘরোয়া অনুষ্ঠানে থাকতেই হবে। এ যেন এক ঐতিহাসিক রীতিনীতি। খাবার হজমে, ডায়াবেটিস ও হার্টের সমস্যায় কাঁচা দুধের দধি উপকারিতা রয়েছে। এ ছাড়াও, এই দই অধিক পরিমাণ প্রোটিন সমৃদ্ধ। এটি রক্তচাপ কমায় ও হাড়ের মজবুত গঠনেও ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ পুষ্টিমান বিবেচনায়ও এটি মানবদেহের জন্য একটি উপকারী খাবার হিসেবে বিবেচ্য।

এ এলাকার মানুষ খাবারের শেষে ভাতের সঙ্গে দই খেয়ে থাকে। দই, চিড়ার সঙ্গে হালকা মুড়ি ও চিনি মিশিয়ে মজা করে খাওয়া যায়। গরমের মৌসুমে দইয়ের সঙ্গে হালকা পানি ও চিনি মিশিয়ে ঘোল তৈরি করা হয়। এ ঘোল গরমের দিনে মানবদেহকে ঠান্ডা রাখে। অনেকে কুটুম বাড়িসহ পছন্দের মানুষের উপহার কিংবা দেশের বাইরেও প্রিয়জনদের কাছে এখানকার দধি পাঠিয়ে থাকে। কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান হলে দধি দিয়ে আপ্যায়ন করা প্রায় বাধ্যতামূলক। শীতে হাঁসের মাংসের সঙ্গে টক দই আর খেজুরের গুড় ভোজনরসিকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় খাবার। 

আরো জানা গেছে, ভোলায় বছরে গরু ও মহিষের দুধ উৎপাদন হয় প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫৭ টন। এর মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার টন মহিষের দুধ। উৎপাদন অনুযায়ী দুধের চাহিদা রয়েছে দ্বিগুণ। বর্তমানে প্রতি দেড় লিটারের টালী দই বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকায় এবং দুই মিটারের বড় টালী ৩৫০-৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। ঈদকে কেন্দ্র করে দাম আরও বেড়ে যায়। ঈদ শুরুর অন্তত দুই সপ্তাহ আগ থেকে দুধ সংগ্রহে রাখেন বিক্রেতারা। ঈদের পরও বেশ কিছুদিন এর চাহিদা থাকে তুঙ্গে।

উপকূলীয় অঞ্চলের এই টক দইয়ের চাহিদা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে খামারিরা জানান, আজকাল ঢাকার লালমাটিয়া, মোহম্মদপুর, দারুস সালাম ও মিরপুরের অরগানিক খাবারের দোকানগুলো ভোলা থেকে ভৈষা দই কিনে নিয়ে বিক্রি করছে এবং চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। ঢাকার দোকানগুলোতে প্রতি দেড় লিটারের টালী দই বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা এবং ২ লিটারের বড় টালী বিক্রি করা হয় ৪০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত।

প্রায় ৪০ বছর ধরে বাথানভিত্তিক মহিষের আবাদ ও দইয়ের ব্যবসা করছেন ভোলার শাহিন আলম। তিনি জানান, মহিষের দুধ ঘন। এতে পানির পরিমাণ কম থাকায় মাটির পাতিলে দই পাতলে সে পানিটুকুও শুষে নেয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের পর দইয়ের ওপর ঘন মাখন জমে। প্রথমে একটি মাটির পাত্র (টালি) পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর দুধগুলোকে ভালোভাবে ছেকে মাটির পাত্রে স্থির জায়গায় রেখে দিলে হয়ে যাবে মুখরোচক টক দই। গরমের দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা এবং শীতের দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগে দই তৈরিতে। তিনি আরও জানান, চরাঞ্চলে পর্যাপ্ত কিল্লা (দুর্যোগে মহিষের আশ্রয় নেওয়ার জায়গা) না থাকায় ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় নিখোঁজ হয় অনেক মহিষ। তাই খামারিরা মহিষ পালনে দিন দিন আগ্রহ হারাচ্ছেন। ভোলার ঐতিহ্যবাহী মহিষের দুধের ‘টক দই’ ধরে রাখতে হলে সরকারি-বেসরকারি কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। 

ভোলা শহরের আদর্শ দধি ভা-ারের মালিক মো. আব্দুল হাই জানান, ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তার বাবা চরে মহিষ পালন করতেন। সেই মহিষের দুধের ওপর নির্ভর করেই তিনি দইয়ের দোকান দিয়েছেন। বর্তমানে বাবার পরিবর্তে নিজে ব্যবসার হাল ধরেছেন। এখন দইয়ের বেশ চাহিদা থাকলেও দুধের সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছেন না। খাদ্যসংকটসহ নানা কারণে চরাঞ্চলে মহিষ পালন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে বলে জানান আব্দুল হাই। 

এদিকে, ভৈষা দইয়ের বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকারের পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের সাসটেইনেবল এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্ট (এসইপি)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভোলা জেলা কেন্দ্রিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ) চরফ্যাশনে উৎপাদিত ভৈষা দইকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত ও বাজারজাতকরণে কাজ করছে। সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব খামার তৈরি, নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তিতে পণ্য প্রক্রিয়া এবং বাজারজাতকরণে প্রান্তিক খামারি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সংস্থাটি। পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে আর্থিক ও সব ধরনের কারিগরি সহায়তা।

এফডিএ জানায়, তাদের সহায়তায় এই এলাকার দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদভাবে বাজারে আসছে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। ভৈষা দই এখন একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ঢাকার বাজারে পরিচিতি পাচ্ছে। অচিরেই এই পদ্ধতিতে অনেক স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের উৎপাদিত দুগ্ধপণ্য জাতীয় বাজারে নেওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা যায়।

প্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার এসইপি প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার ডা. তরুণ কুমার পাল জানান, কেবল মহিষ ও মহিষ বাথানিয়াদের কথা চিন্তা করে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে বিনামূল্যে মহিষের চিকিৎসাসেবা। পল্লীকর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের এসইপি প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা ভোলার ভেদুরিয়ার চর চটকি মারা, ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চর চন্দ্র প্রসাদ ও চরমুন্সিতে মোট তিনটি আধুনিক কিল্লা নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। যা ভোলাতেই প্রথম বলে জানান গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন। গুরুত্ব বিবেচনায় আরও কিল্লা নির্মাণ কাজটি চলমান থাকবে বলে জানান তিনি। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ভোলায় জনবসতি গড়ে ওঠার সাথে সাথে মানুষ উপার্জনের জন্য মহিষ, গরু-ছাগল পালন শুরু করেন। বিশেষ করে অবস্থাসম্পন্ন গৃহস্থ পরিবারগুলো শত শত মহিষ পালন করে। যুগ যুগ ধরে বহু পরিবার এখানে মহিষ ও দই বিক্রির পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। দুধ-দই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন চরে গড়ে উঠেছে শত শত মহিষ বাথান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব বাথান থেকে গোয়ালরা টনে টনে দুধ নিয়ে আসে শহরের বাজারগুলোতে। গোয়ালদের কাছ থেকে প্রয়োজন মতো দুধ কিনে নেয় দই ব্যবসায়ীরা। এরপর বিভিন্ন ধরনের টালিতে দুধ বসিয়ে প্রস্তুত করা হয় দই।

ভোলা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মমিন টুলু বলেন, ইলিশ আর মহিষের দুধের কাঁচা দধি ভোলার ব্র্যান্ড। উপকূলের মহিষের দুধে আছে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। দেশের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো মহিষের দুধভিত্তিক কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে। এর মাধ্যমে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ঐতিহ্যবাহী এ পণ্যের সুনাম ছড়াতে পারে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও।


আরও খবর



খাগড়াছড়ি ৩ উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন যারা

প্রকাশিত:বুধবার ২২ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | ১৩৪জন দেখেছেন

Image

জসীম উদ্দিন জয়নাল,পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি:৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বিচনে খাগড়াছড়িতে দ্বিতীয় ধাপে  তিনটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। 

উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে একটিতে আওয়ামী লীগ ও অপর দুই উপজেলা পরিষদে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের সমর্থিত প্রার্থীরা নিবাচিত হয়েছেন।

দ্বিতীয় ধাপে তিন উপজেলা খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা ও পানছড়ি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ১০ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১২ জন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

তিন উপজেলায় ভোটকেন্দ্র ১০২টির মধ্যে ৮১ কেন্দ্র ঝুকিপূর্ণ ছিল। যার কারণে গতকাল ৪১টি কেন্দ্রে আর আজ সকালে ৬১টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়।মোট তিন উপজেলায় ভোটার ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৩ জন।

খাগাড়ছড়ির সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে  খাগড়াছড়ি জেলা আ,লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক  চেয়ারম্যান  পদে (আনারস) প্রতীক নিয়ে ১৬ হাজার ৮শ'৩২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী কল্যাণ পরিষদের নেতা সন্তোষিত চাকমা   (দোয়াত-কলম) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮ হাজার ৫শ'৬৫ ভোট। পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে  ক্যউচিং মারমা  (তালা) প্রতীক নিয়ে ১৬ হাজার ২শ'৯১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো.আসাদ উল্লাহ (বই) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১০ হাজার ৪শ'১৭ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কল্যাণী এিপুরা (কলস) প্রতীক নিয়ে ১৭ হাজার ৪শ'৭১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিপু এিপুরা  (ফুটবল) প্রতীক নিয়ে ১১ হাজার ৬শ'৭৭ ভোট পেয়েছেন।

পানছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে

আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ এর  চন্দ্র দেব চাকমা  (কাপপিরিচ) প্রতীক নিয়ে ২৪ হাজার ৮শ'৩২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আঞ্চলিক সংগঠন  গণতান্ত্রিক সমর্থিত প্রার্থী মিটন চাকমা চেয়ারম্যান  পদে (আনারস)  প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩শ'৫৭ ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান পদে  সৈকত চাকমা (টিউবওয়েল) প্রতীক নিয়ে ২৪ হাজার  ১৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কিরণ এিপুরা (চশমা) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭ হাজার ৩শ'১৮ ভোট। নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস-চেয়ারম্যান মনিতা এিপুরা  (ফুটবল) প্রতীক নিয়ে ২১ হাজার ২শ'৬৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রার্থী সুজাতা চাকমা (কলস) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৭শ'৪৭ ভোট।

দীঘিনালা  উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ সমর্থিত প্রার্থী ধর্ম জ্যোতি চাকমা চেয়ারম্যান পদে (মোটরসাইকেল) প্রতীক নিয়ে ৩৩ হাজার ২শ.১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের  সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান মো.কাশেম  (আনারস) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬শ.৯ ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান পদে সুসময় চাকমা (চশমা) প্রতীক নিয়ে ৩২ হাজার ৪শ'৩৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বর্তমান ভাইস-চেয়ারম্যান  মোস্তফা কামাল মিন্টু (টিউবওয়েল)  প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৪শ' ৫২ ভোট। নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে সীমা দেওয়ান ( কলস) প্রতীক নিয়ে ৩০ হাজার ৮৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জেলা মহিলা যুব লীগের সাধারন সম্পাদক বিলকিছ বেগম  (প্রজাপতি) প্রতীক নিয়ে ২৫ হাজার ৬শ'৬৩ ভোট পেয়েছেন।


আরও খবর