English Version

উষ্ণায়নের ফলে ৮০ বছরে দুর্যোগ বাড়বে দেড় গুণ

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২, ২০১৮, ২:১১ অপরাহ্ণ


ডেস্ক নিউজ:জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবে একাধারে খরা, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, বন্যা, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া, দাবানল, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়াসহ নানামুখী প্রাকৃতিক দুর্যোগের উদ্ভব হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীপৃষ্ঠে হিমবাহের আয়তনের হ্রাস-বৃদ্ধিও ঘটে। তবে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ২১০০ সালের মধ্যে খারাপ আবহাওয়ার মাত্রা আগের তুলনায় অনেকাংশে বাড়বে। তাদের আশঙ্কা, আগামী ৮০ বছরের মধ্যে প্রকৃতিক দুর্যোগের হার দেড়গুণ বাড়বে অর্থাত্ আগে যেখানে বছরে গড়ে চারটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হতো সেখানে গড়ে ৬টি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হবে।

সাইন্স অ্যাডভান্স জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বিরূপ আবহাওয়া প্রত্যক্ষ করবে মানুষ। যা কিনা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রূপ নেবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে। আগামী ৮০ সালের মধ্যে গড়ে ৫০ ভাগ প্রাকৃতিক বিপর্যয় বাড়বে। যা কিনা একটা পর্যায়ে ৩০০ ভাগ পর্যন্তও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষণা দলের সহ-গবেষক পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও জলবায়ু বিজ্ঞানী মিচেল মান বলেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে পৃথিবীর ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানল এবং ইউরোপের তাপদাহ। এছাড়া সুমেরু অঞ্চলে দাবানল এবং জাপানের মতো দ্বীপদেশে বন্যায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের খারাপ পরিস্থিতির চিত্র ফুটে ওঠে। প্রায়ই টেলিভিশনের পর্দায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর দেখতে পাই। তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির অতি ব্যবহারের ফলে বাড়ছে পৃথিবীর তাপমাত্রা, সেই সঙ্গে কার্বন নিসঃরণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু এই সমস্যা সমাধানে অনেক সময়ই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া প্রতি বছর ভারত এবং আফ্রিকার দেশগুলোর মানুষকে চরম তাপদহ এবং খরার শিকার হতে হয়। এশিয়ার দেশগুলোতে বাড়ছে ভূমিকম্পের সংখ্যা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ সারা বিশ্বে বাড়ছে সাইক্লোনের ঘটনা। ন্যাচার জার্নালে প্রকাশিত অন্য এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সমুদ্রের পানি অনেক বেশি তাপ শোষণ করে চলেছে। সমুদ্রের পানির তাপ শোষণের মাত্রা ধারণার চেয়ে অনেক বেশি।

একই সঙ্গে গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে এমন এক প্রক্রিয়া যার দ্বারা ভূপৃষ্ঠ হতে বিকীর্ণ তাপ বায়ুমণ্ডলীয় গ্রিনহাউজ গ্যাসসমূহ দ্বারা শোষিত হয়ে পুনরায় বায়ুমণ্ডলের অভ্যন্তরে বিকিরিত হয়। এই বিকীর্ণ তাপ ভূপৃষ্ঠের তথা বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধির পেছনে এই গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

গবেষণা দলের সহ-গবেষক কাই কর্নহুবার বলেন, ২১০০ সালের মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা গড়ে ৫০ ভাগ বাড়ার যে পূর্বানুমান করা হচ্ছে তা আরো বেশি খারাপ রূপ নিতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ৩০০ ভাগ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পর্যাপ্ত পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদী তথ্য উপাত্তের অভাব রয়েছে বলে এই সম্পর্কে এখনই খুব বেশি নির্ভুল তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।

গবেষণা দলের অন্য এক সহ-গবেষক জলবায়ু বিজ্ঞানী স্টিফান রাহামশ্রফ বলেন, বায়ুদূষণ রুখতে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে শিল্পোনত দেশগুলিকে। আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। আর আগামী দিনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের চরম অবস্থা থামাতে হলে সবার আগে বন্ধ করতে হবে কয়লার ব্যবহার।

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার, (ভি আই পি) রোড- নয়া পল্টন ,ঢাকা- ১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

.::Developed by::.
Great IT