English Version

বর্বর গ্রেনেডে প্রাণ হারান যাঁরা

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১১, ২০১৮, ১২:০২ অপরাহ্ণ


২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে বর্বর গ্রেনেড হামলায় ওই দিন ও পরে আহতদের মধ্যে দুজনসহ মোট ২৪ জন নিহত হন। নিহতদের দুজনের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। বাকিরা হলেন :

আইভি রহমান : সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান ছিলেন আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক। সমাবেশ মঞ্চের সামনেই রাস্তায় কর্মীদের নিয়ে বসেছিলেন তিনি। গ্রেনেড হামলায় তাঁর পা উড়ে যায়। দুই দিন পর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তাঁর পুরো নাম ছিল বেগম জেবুন্নেছা আইভি।

মোস্তাক আহমেদ সেন্টু : আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক ছিলেন মোস্তাক আহমেদ সেন্টু। বরিশাল পলিটেকনিকের ছাত্র থাকাকালে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত হন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। গ্রেনেড হামলার সময় শেখ হাসিনাকে ঘিরে যাঁরা মানবঢাল তৈরি করেছিলেন তাঁদের মধ্যে তিনিও ছিলেন। ওই অবস্থায়ই অসংখ্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয় তাঁর শরীরে। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ : শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাদলের সদস্য ছিলেন। গ্রেনেড হামলার পর শেখ হাসিনাকে যখন দলীয় নেতাকর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁর গাড়িতে তুলে দিচ্ছিলেন তখন শেখ হাসিনাকে আড়াল করে রাখা এই নিরাপত্তারক্ষী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

রফিকুল ইসলাম : ‘আদা চাচা’ নামে আওয়ামী লীগের কর্মীমহল ও আওয়ামী লীগের খবরাখবর সংগ্রহ করতেন এমন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন রফিকুল ইসলাম। তাঁর আনুষ্ঠানিক পদবি ছিল ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। ষাটের দশক থেকে আওয়ামী লীগের প্রতিটি কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। তিনি সাধারণ গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অবস্থান করতেন এবং সাংবাদিকদের মধ্যে শুকনো আদা বিতরণ করতেন নিজের উদ্যোগে। গ্রেনেড বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও সাংবাদিকদের কাছেই ছিলেন তিনি।

সুফিয়া বেগম : ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন সুফিয়া বেগম। ধারণা করা হয়, তিনি শেখ হাসিনার মঞ্চের সামনে আইভি রহমানের কাছাকাছি ছিলেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

হাসিনা মমতাজ রীনা : ঢাকার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন তিনি। তিনিও আইভি রহমানের সঙ্গে মঞ্চের সামনেই ছিলেন অন্য নারী নেতাকর্মীদের সঙ্গে।

লিটন মুন্সী ওরফে লিটু : মাদারীপুরে যুবলীগের রাজনীতি করতেন লিটন মুন্সী। সেখানে একটি ইউনিয়ন শাখা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। ঢাকায় এলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত আসতেন এবং দলীয় কর্মসূচিতেও অংশ নিতেন। ২১ আগস্টের কর্মসূচিতে যুবলীগের অন্য নেতাকর্মীদের সঙ্গেই ছিলেন। গ্রেনেড বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি।

রতন সিকদার : রতন সিকদার ছিলেন পেশায় রি-রোলিং মিল ব্যবসায়ী। নারায়ণগঞ্জের উত্তর মাসদাইর এলাকার এই ব্যবসায়ী আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতেন। গ্রেনেড বিস্ফোরণের সময় মঞ্চের কাছে দাঁড়িয়েই সভানেত্রীর ভাষণ শুনছিলেন তিনি।

মো. হানিফ : ঢাকার ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের রিকশা শ্রমিক লীগের নেতা ছিলেন তিনি। দলীয় মহলে পরিচিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা হানিফ নামে।

মামুন মৃধা : সরকারি কবি নজরুল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন মামুন। ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

বেলাল হোসেন : ঢাকার ৬৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পুরান ঢাকার আগামসিহ লেনের বাসিন্দা বেলাল হোসেন মিছিলসহ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে এসেছিলেন সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য। ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।

আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম : যুবলীগের কর্মী ছিলেন। সমাবেশে যোগ দিতে তাঁর এলাকা থেকে আসা মিছিলের সঙ্গে ছিলেন তিনি।

আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারী : তিনি ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী।

আতিক সরদার : যুবলীগের ৮৪ নম্বর ওয়ার্ডের নেতা ছিলেন তিনি।

নাসিরউদ্দিন সরদার : আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন শ্রমিক লীগের কর্মী ছিলেন।

রেজিয়া বেগম : স্বেচ্ছাসেবক লীগের একজন নেত্রী। একই সঙ্গে মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতেও নিয়মিত অংশ নিতেন তিনি।

আবুল কালাম আজাদ : ঢাকার বালুঘাট ইউনিট যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া সংগঠনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড শাখার কার্যকরী সদস্য ছিলেন।

এ ছাড়া ইছহাক মিয়া, শামসুদ্দিন, আবুল কাসেম, জাহেদ আলী ও মমিন আলী ছিলেন আওয়ামী লীগের কর্মী। গ্রেনেড হামলার পর ঘটনাস্থলে বা হাসপাতালে নেওয়ার সময় কিংবা হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁরা মারা যান।

অজ্ঞাতপরিচয় দুজন : এই দুজনের পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফলে তালিকায় তাঁদের নাম অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবেই রয়েছে।

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার, (ভি আই পি) রোড- নয়া পল্টন ,ঢাকা- ১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

.::Developed by::.
Great IT