English Version

কুমিল্লায় শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, ধর্ষকের বাড়িতে আগুন

প্রকাশিতঃ মার্চ ১৭, ২০১৯, ১২:২৮ অপরাহ্ণ


 

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে তেতুলের প্রলোভন দেখিয়ে তাওহীদা ইসলাম ইলমা (৯) নামের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
গত শনিবার সকালে ডাকাতিয়া নদীতে কাঁথা ও মশারি পেঁচানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
এসময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাইন উদ্দিন বাপ্পি (২০) নামে এক ‘ধর্ষক’কে গণধোলাই দিয়ে তার দুটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বাপ্পিসহ আরো ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে ইলমার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। নিহত ইলমা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গজারিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনের কন্যা এবং গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার বিকেলে ইলমাকে জাকির হোসেনের ছেলে মাঈন উদ্দিন বাপ্পি ও আবুল কালামের ছেলে মিজানুর রহমান (১৯) তেতুলের প্রলোভন দেখিয়ে বাপ্পিদের ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে প্রথমে লাশ বাপ্পির ঘরের সিলিংয়ের উপর লুকিয়ে রাখে। পরে রাতে বাড়ির পাশে ‘মরা ডাকাতিয়া’ নদীতে লাশটি কাঁথা ও মশারি মুড়িয়ে পানির নিচে মাটিতে লুকিয়ে রাখে।
এদিকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত স্কুলছাত্রী ইলমাকে খুঁজে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা মাইকিং ও পাশের ডাকাতিয়া নদীতে খুঁজতে থাকে। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি।
পরদিন শনিবার সকালে এলাকাবাসী সন্দেহভাজনকভাবে বাপ্পিকে আটকের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার দেয়া তথ্যমতে ডাকাতিয়া নদীর পানির নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। লাশটির সাথে মোড়ানো কাঁথা ও মশারি বাপ্পির বলে নিশ্চিত হন তারা।
এদিকে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় হাজার হাজার মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা বাপ্পিকে গণধোলাই দিয়ে দুইটি ঘর, একটি খড়ের গাদা আগুনে পুড়িয়ে দেয় এবং তার সহযোগী মিজানের দুইটি ঘর ভাংচুর করে। স্কুলছাত্রী ইলমার মা হাছিনা বেগম জানান, ধর্ষক বাপ্পির বাড়িতে একটি তেতুল গাছ আছে। ইলমা স্কুল থেকে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই বাপ্পি তাকে তেতুলের প্রলোভন দেখাতো। ঘটনার দিন শুক্রবার বিকেলে তেতুলের কথা বলেই ইলমাকে তার ঘরে নিয়ে যায় বাপ্পি।
গত শনিবার সন্ধ্যায় চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, স্কুল পড়ুয়া শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে আরও চারজনকে। উত্তেজিত জনতা বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

প্রধান সম্পাদক:
রিফান আহমেদ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার, (ভি আই পি) রোড- নয়া পল্টন ,ঢাকা- ১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

.::Developed by::.
Great IT