English Version

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা তেমন ছিল না গুদামটিতে

প্রকাশিতঃ মার্চ ৪, ২০১৯, ১২:৫১ অপরাহ্ণ


• আগুনে ১৭ কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে
• গুদামে থাকা দাহ্য পদার্থের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায় আগুন
• গুদামে পাটজাত পণ্য নেই

চট্টগ্রাম এ কে খান মোড়ের ভিক্টোরিয়া জুটের গুদামে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। গুদামে তেমন কোনো অগ্নি–নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল না। ফলে গুদামে থাকা দাহ্য পদার্থের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায় আগুন। এ আগুনে ১৭ কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে।

১৮ জানুয়ারি বিকেল পাঁচটায় এ আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে ২২ জানুয়ারি সকাল ৯টায়। এ আগুনের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে ওপরের তথ্যগুলো। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের কাছে সম্প্রতি এ প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি।

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের এ কে খানের পশ্চিম পাশ ঘেঁষে এ গুদাম অবস্থিত। বর্তমানে এ গুদামে পাটজাত পণ্য নেই। গুদামটি প্ল্যাস্টিক, ইলেকট্রনিক্‌স, তুলাসহ নানা পণ্যের প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল।

আগুনের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাশহুদুল কবীরকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার পংকজ বড়ুয়া, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ এবং কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমেদকে সদস্য করা হয়।

কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং গুদামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারী সব মিলিয়ে ১০ জনের জবানবন্দী নেয়। মূল প্রতিবেদনটি পাঁচ পৃষ্ঠার হলেও অন্যান্য কাগজপত্র মিলিয়ে তা ১৩৬ পৃষ্ঠার।

যে কারণে শর্টসার্কিট
প্রতিবেদনে বলা হয়, গুদামটির অভ্যন্তরীণ সারপেস ওয়ারিং যথাযথ মান বজায় রেখে স্থাপিত না হওয়ায় এবং সংযোগ তারের ইনসুলেশন ব্রেক করে শর্টসার্কিট হয়ে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পরে গুদামে রক্ষিত দাহ্য পদার্থ অগ্নিকাণ্ডের ব্যাপকতায় প্রভাবকের ভূমিকা পালন করে। এ গুদামটি একসময় জুট মিলের সুতা তৈরির বিভাগ ছিল। সে অনুযায়ী সেখানে বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে গুদামের ব্যবহার অনুযায়ী এ বিদ্যুৎ সংযোগ যুৎসই নয়। একই শক্তি সম্পন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ বহাল রাখায় অতিঝুঁকি তৈরি হয়। এর পাশাপাশি গুদামে ফায়ার এক্সটিংগুইশার ছাড়া তেমন কোনো অগ্নি–নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয়নি।

আগুনে ক্ষয়ক্ষতি
অগ্নিকান্ডে লোকজন হতাহত থেকে রক্ষা পেলেও গুদামে রক্ষিত দুটি প্রতিষ্ঠানের পণ্য এবং দুটি গুদামের স্থাপনা পুরোপুরি ভস্মিভূত হয়। এ ছাড়া আরেকটি প্রতিষ্ঠানের ১১ হাজার ৯৪৫ বেইল তুলার মধ্যে (১ বেইল সমান ১৮১ কেজি) ১০ হাজার বেইল তুলা পুড়ে গেছে। তবে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বিরামহীন প্রচেষ্টার কারণে আগুন প্রসার বেশি হয়নি।

অন্যদিকে আগুন নেভাতে পানি সংগ্রহ করায় স্থানীয় বেশ কিছু পুকুর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। এতে পানির অভাবে পুকুর ব্যবহারকারীরা সাময়িক বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন।

সুপারিশ
তদন্ত কমিটি অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে পাঁচটি এবং গোডাউন ও গুদাম ব্যবস্থাপনায় ছয়টি সুপারিশ করেছে।

এর মধ্যে অন্যতম হলো, প্রতিষ্ঠানের ধরন বিবেচনায় অগ্নিনির্বাপন সরজ্ঞামাদি মজুত রাখা এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মাধ্যমে তিন থেকে ছয় মাস পরপর যাচাই করা, নির্দিষ্ট পরিমাপের জলাধার স্থাপন, প্রশিক্ষিত ও দক্ষ ফায়ার ফাইটার দল নিয়োজিত করা, দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফিন্সের অগ্নিনিরাপত্তা–সংক্রান্ত ছাড়পত্র নিতে হবে।

তদন্ত কমিটির সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ভবিষ্যতে যাতে আগুনের ঘটনা আর না ঘটে সেজন্য গুদামসহ প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম মেনে চলছে কিনা তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

প্রধান সম্পাদক:
রিফান আহমেদ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার, (ভি আই পি) রোড- নয়া পল্টন ,ঢাকা- ১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

.::Developed by::.
Great IT