English Version

মাদারীপুর ডিসি অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০, ২:১৪ অপরাহ্ণ | শেষ আপডেটঃ সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০্‌, ২:১৭ অপরাহ্ণ


          মিরাজ মাহমুদঃ

মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কর্যালয়ের এল এ শাখায় কর্মরত কানুনগো মোঃ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ,দুরানীতিও ঘুষ কেলেঙ্কারির তথ্য পাওয়া গেছে্ সরকারী ২ কোটি টাকা আত্মসাতের কারনে তার বিরুদ্ধ ভুমি মন্ত্রনালয়ে একটি অভিযোগ জমা পড়ছে।

 

গত ২৭ জুলাই তার বিষয়টি তদন্তের জন্য মাদারীপুর জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছে ভুমি মন্ত্রনালয একাধিক ভুক্তভোগী জানায় আবুল হোসেন দীর্ঘদিন একই শাখায় কর্মরত থাকায় দালালদের মাধ্যমে বিশাল একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।তার চাহিদা মতো ঘুষ না দিলে মাসের পর মাস অধিগ্রহন ফাইলসহ সব ধরনের ফাইল আটকে রাখেন।

প্রতিটি ফাইল বাবদ তাকে ১০/১৫পার্সেন্ট কমিশন দিতে হয়।সম্প্রতি তিনি মাদারীপুরে তার ভারা বাসায় নারীর সাথে অপকর্ম করার সময় জনতার কাছে হাতে নাতে ধরা পরে।তার ব্যাংক এ্যাকাউন্টের তথ্য নিয়ে সেখানে কয়েক কোটি টাকার লেনদেনের খবর ইতিমধ্যেই পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রচারিত হয়েছে।

সুত্র মতে জানা গেছে ভুয়া মালিক সাজিয়ে তিনি জমি অধিগ্রহনের নামে বহু লোককে ভুয়া মালিক সাজিয়ে বিল উত্তোলন করে দিয়েছেন।এজন্য তিনি প্রতিটি ফাইল থেকে৫০/৬০ পার্সেন্ট কমিশন নিয়েছেন বলেও জানা গেছে।পিয়ারা বেগম নামে এক নারীকে জমির মালিক সাজিয়ে ২কোটি টাকা বিল বাগিয়ে দেন।

ওয়াকফকৃত সম্পত্তি নিয়ে চলমান একটি জমির বিল উত্তোলন করে দেন জনৈক কাদির মুন্সীকে।
আরো খোজ নিয়ে জানাগেছে মাদারীপুর জেলার শিবচর থানাধীন কুতুবপুর হতে সুর্যনগর পর্যন্ত মোট ১৮ টি মৌজার কুতুবপুর ,বড় কেশবপুর,পাঁচচর,দক্ষিন চর জানাজাত,কাদির পুর,মাদবর চর,সূর্যনগর মৌজা, পদ্মা সেতু রেলওয়ের আংশিক অধিগ্রহনকৃতজমি,ঘর গাছের বাগান ক্ষতিপুরন বিল উত্তোলন করার ক্ষেত্রেও করেছেন নানান অনিয়ম ও দূর্নীতি।

এতে আরো জড়িত রয়েছে মাদারীপুর জেলাপ্রশাসক কার্যালয়ের এল এ শাখার কর্মকর্তা ও দালাল চক্ররা।এই ১৮ টি মৌজার অধিগ্রহন বিলের তালিকা গুলো প্রস্তত করে ৩ টি গ্রুপ বিভক্ত হয়ে পূর্বের এডিসি (এল.এ শাখার ) মোঃ সজল নুর এর নেতৃত্বে সার্ভেয়াররা।সার্ভেয়ার গন হলেন মোস্তাফিজুর রহমান, মাইনুল, রাসেল এবং কানুনগো আবুল হোসেন।

সরজমিন ঘুরে জানাগেছে অধিগ্রহনকৃত নালজমিতে নির্মান করা হয়েছে নতুন ঘর,চারা গাছের বাগান। যেখানে দুইশতাংশ জমিতে ১১০/১২০টি গাছের চারা রোপন করার কথা সেখানে ২৫০০/২৬০০ গাছের চারা রোপন করা হয়েছে।অতিরিক্ত ক্ষতিপূরন বিল উত্তোলন করার আশায় এই অনিয়ম ও দূর্নীতিতে লিপ্ত হয়ে পরেছেন ডিসি অফিসের সার্ভেয়ার মোস্তাফিজুর রহমান, মোঃ রাসেল সহ দালাল চক্ররা।

সরেজমিন ঘুরে যেসব দালালদের নাম পাওয়া গেল তারা হলেন মোহাম্মদ কহিনুর হাওলাদার, পিতা-মতলব হাওলাদার, সাং-নাওডোবা, মোহাম্মদ হুমায়ুন ঢালী, সাং-বি,কে নগর, মোহাম্মদ বাবুল হাওলাদার, পিতা-লাল মিয়া হাওলাদার, মোঃ বাচ্চু মোল্লা, পিতা-টোকানি মোল্লা, মোঃ মোস্তফা মোড়ল, পিতা-নুরা মোড়ল, মোঃ ফরহাদ হাওলাদার, খলিল তসতার, পিতা-কাদির তসতার, মোঃ আজিজুল মোল্লা, পিতা-দানেশ মোল্লা,সাং- কুতুবপুর,হারুন হওলাদার,পিতা-আক্তার হাওলাদার, মোহাম্মদ ইউসুফ,সাং-পাঁচ চর সহ ৪০/৪৫ জনের একটি দালাল চক্ররা।

বরিশাল, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুরসহ সরকার যেখানেই জমি অধিগ্রহন করে সেখানেই এসব দালাল চক্ররা পৌছে যান। গোপনে চুক্তি করে নাল জমিতে তৈরি করেন অতিরিক্ত গাছের বাগান,নতুন ঘর, এমনকি একই ঘর বার বার বিভিন্ন প্রকল্পে তুলতেও দেখা গেছে।ডিসি অফিসের এল এ শাখার কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাযোশে এসব অপকর্ম করে।তাদের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে অতিরিক্ত ক্ষতিপুরন বিল উত্তোলন। এ কারনে তাদেরকে মাদারীপুর ডিসি অফিসের এল এ শাখায় দৌড়ঝাপ করতে দেখা গেছে।
বাবুল হাওলাদার নামক এক ঘর ও গাছের বাগান মালিক জানান আমরা ডিসি অফিসের এল এ শাখার কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করার পর তাদের কে ঘুষ দিয়েই অতিরিক্ত গাছের বাগান ও ঘর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করাই। শুধু আমিই ঘুষ দিয়ে তালিকায় অতিরিক্ত গাছের বাগান ও ঘর লেখাই নি আমার মত, শত শত গাছের বাগান মালিক ও জমি এবং ঘর মালিক ডিসি অফিসের দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের আশায় এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন।

এ বিষয়ে মাদারীপুর ডিসি অফিসের এল এ শাখায় কর্মরত কানুনগো আবুল হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান অনেক দালাল আমাদের পূর্বের এডিসি (এল.এ শাখার ) মোঃ সজল নুর স্যারের খাস লোক ছিল তাই তার নির্দেশেই এসব তালিকা প্রস্তত করা হয়েছে।সরকার দেশ জুরে উন্নয়নের জন্য মেগা বাজেটের এসব প্রকল্পে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কারনে হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়ছে।

এই বিভাগের আরো খবর

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

বার্তা সম্পাদকঃ
সোরওয়ার্দী মিয়া

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার (ভিআইপি) রোড, নয়া পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ 015-35773314 - 013-18515080
ই-মেইল: khoborprotidin24.com@gmail.com

.::Developed by::.
Great IT